বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
বিবিধ

হাতে ক্ষত, ব্যথায় কাতর—ক্লিনিকে গিয়ে সাহায্য চাইল হনুমান

হনুমান

ব্যথায় কাতর একটি আহত হনুমান চিকিৎসার আশায় নিজেই একটি ক্লিনিকে এসে হাজির হয়। সেখানে উপস্থিত লোকজনের কাছে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি যেন বোঝানোর চেষ্টা করে প্রাণীটি। এমন ঘটনা দেখে সবাই বিস্মিত হন। পরে প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন বিভাগের উদ্যোগে হনুমানটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার রাজবাড়ীর পাংশা শহরের হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারে ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্লিনিকে এসে হনুমানটি রোগীদের বসার বেঞ্চে চুপচাপ বসে পড়ে। কখনো মাথা নিচু করে, আবার কখনো শুয়ে থাকে। উপস্থিত অনেকেই তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। কেউ কেউ কলাও খেতে দেন। এ সময় হনুমানটি তার আহত হাত দেখিয়ে কষ্টের কথা বোঝানোর চেষ্টা করে।

হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক আরিফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে থেকেই হনুমানটিকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল। তার হাতে সেলাই করা ক্ষত ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এক তাল বিক্রেতার আঘাতে সে আহত হয়েছিল। ক্লিনিকে এলেও সেখানে প্রাণিচিকিৎসক না থাকায় সরাসরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। ভেটেরিনারি সার্জন ফাহাদ মোহাম্মদ প্রান্ত জানান, পুরোনো ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ায় হনুমানটি ব্যথায় ভুগছিল। অনেক চেষ্টা করে তাকে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

পাংশা উপজেলা বন কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, আহত স্থানে সংক্রমণের কারণে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় হনুমানটি চিকিৎসার আশায় ক্লিনিকে চলে আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তাকে নিরাপদ স্থানে এনে খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে খুলনার বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে হনুমানটির চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাণীটি আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ।

ক্লিনিকক্ষতব্যথাসাহায্যহনুমান