বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
স্বাস্থ্য

খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না? কারণগুলো জেনে নিন

images (4)

আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের ‘স্ট্রেস ইটিং’- এর অভ্যাস আছে অর্থাৎ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা। আবার অনেকের মধ্যে কাজ করে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়। এগুলো হতে পারে বুলিমিয়া রোগের লক্ষণ। তাই জেনে নেয়া জরুরী আপনিও কি এই রোগের ভুক্তভোগী কিনা।

বুলিমিয়া নার্ভোসা একটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক রোগ, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন এবং পরে ওজন বাড়ার ভয়ে বিভিন্ন ক্ষতিপূরণমূলক আচরণ করেন।

এই অবস্থায় ‘বিঞ্জ ইটিং’ বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পর তীব্র অপরাধবোধ কাজ করে। সেই অনুভূতি থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করেন, কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন, কেউ অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন, আবার কেউ ওজন কমানোর আশায় জোলাপ ব্যবহার করেন।

চিকিৎসকদের মতে, জোলাপ ব্যবহার করে ওজন কমানোর ধারণা সঠিক নয়। কারণ খাদ্যের বেশিরভাগ ক্যালরি ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়ে যায়, আর জোলাপ কাজ করে বৃহদান্ত্রে। ফলে এটি ওজন কমাতে কার্যকর নয়। বরং দীর্ঘদিন জোলাপের অপব্যবহারে পানিশূন্যতা, খনিজের ঘাটতি, দুর্বলতা, কিডনির ক্ষতি এবং হৃদ্‌স্পন্দনের অনিয়ম দেখা দিতে পারে।

বুলিমিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ওজন বেড়ে যাওয়ার তীব্র ভয়, বারবার অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, খাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি, একা খাওয়ার প্রবণতা, খাওয়ার পর অপরাধবোধ, ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম করা এবং নিজের শরীর নিয়ে অসন্তোষ।

রোগটি দীর্ঘস্থায়ী হলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা, গলাব্যথা, পানিশূন্যতা, কিডনির জটিলতা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুলিমিয়া নার্ভোসার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও জিনগত প্রভাব, মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, সামাজিক চাপ এবং কঠোর ডায়েটিং ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অনেক সময় রোগটি বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির ওজন সব সময় কম থাকে না।

চিকিৎসা হিসেবে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ, পারিবারিক সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বমি করা বা জোলাপ ব্যবহার করে ওজন কমানো নিরাপদ বা কার্যকর কোনো পদ্ধতি নয়। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন বৃদ্ধিখাবার নিয়ন্ত্রণস্বাস্থ্য