বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
বিবিধ

ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি করা ৪০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার

ে

ভিয়েতনামে মাংসের ব্যবসার জন্য চুরি করা ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রাণীকল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস এ তথ্য জানায়।

হো চি মিন সিটি পুলিশের বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে তায় নিনহ প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪০০টির বেশি জীবিত বিড়াল এবং প্রায় ৮০টি হিমায়িত বিড়ালের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অন্য একটি স্থান থেকে আরও ২১টি বিড়াল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘ তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল সংগ্রহ ও চুরি করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছিল। প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর তারা চুরি করা প্রাণীগুলো নির্দিষ্ট সংরক্ষণকেন্দ্রে নিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করত।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হো চি মিন সিটিতে ধারাবাহিক পোষা প্রাণী চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে গত ১১ জুন এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। যেসব পরিবারের বিড়াল নিখোঁজ হয়েছে, তাদের উদ্ধার করা প্রাণীগুলো শনাক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাণীকল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টিকে ইতোমধ্যে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বন্দিদশা ও দুর্ব্যবহারের কারণে কয়েকটি প্রাণী পরে মারা গেছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা বিড়ালগুলোর খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত বৈধ হলেও এ ধরনের ব্যবসার জন্য বিক্রেতাদের অনুমোদন নিতে হয় এবং প্রাণীগুলোর উৎস সম্পর্কে তথ্য দিতে হয়। প্রাণীকল্যাণ সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ কুকুর ও ১০ লাখ বিড়াল মাংসের জন্য ধরা, চুরি কিংবা পাচারের শিকার হয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কুকুর ধরতে সাধারণত বিষমিশ্রিত ফাঁদ, টেজার বা লোহার চিমটি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বিড়াল ধরার ক্ষেত্রে স্প্রিংযুক্ত ফাঁদের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও পোষা প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে কুকুর-বিড়ালের মাংস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালের এক জরিপে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী এই বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের প্রশংসা করেছে বিভিন্ন প্রাণীকল্যাণ সংগঠন। তাদের মতে, প্রাণী পাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রাণীকল্যাণ সংস্থাবিড়ালব্যবসাভিয়েতনামমাংসহো চি মিন সিটি