সংস্কৃতিমন্ত্রী শুনলেন ভবঘুরে শিল্পী লাইলী বেগমের গান , তুলে দিলেন অনুদানের টাকা

ভবঘুরে সহজাত শিল্পী লাইলী বেগমের বয়স ৬০। শহরের আলীমুজ্জামান ব্রীজের বিসর্জন ঘাটের পাশে একটি ছাপড়া ঘরে থাকেন। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ঘর ছেড়ে চলে এসেছেন এখানে। শহরের অলিগলি, হাটবাজার কিংবা মেলার মাঠ যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই গান গেয়েছেন তিনি। কখনো লোকগান, কখনো লালন, কখনো আবার নজরুলসংগীত। কিন্তু দারিদ্র্য আর জীর্ণ পোশাকের কারণে অনেক সময় অপমানও সহ্য করতে হয়েছে তাকে।
গত ২৪ মে ফরিদপুরের ময়েজমঞ্জিলে নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তার কণ্ঠে ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল’ গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বদলে যায় সবকিছু। রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন এই ভবঘুরে শিল্পী। এখন রাস্তায় দেখা হলেই মানুষ অনুরোধ করেন একটু গান শোনাতে।
লাইলী বেগমের পৈত্রিক বাড়ি নাটোরে। ছোটবেলায় হারিয়েছেন নিজের মা-বাবাকে। ফরিদপুরে পালক মায়ের স্নেহে বড় হওয়া এই নারী সেখান থেকেই গান শেখার হাতেখড়ি পান। জীবনের নানা ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গানকেই বেছে নিয়েছেন সঙ্গী হিসেবে। এবার সেই ফরিদপুরের আলোচিত ভাইরাল সংগীতশিল্পী ভবঘুরে লাইলী বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তিনি লাইলী বেগমের হাতে ৩ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর অনুরোধে লাইলী বেগম গান গেয়ে শোনান। গানটি ছিল শ্যামাসংগীত, ‘সকলি তোমারই ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি/ তোমার কর্ম তুমি করো, লোকে বলে করি আমি…

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপস্থিত কয়েকজন জানান লাইলীর হৃদয়ছোঁয়া কণ্ঠ উপস্থিত সবাইকে বিমোহিত করে। তাঁর কণ্ঠের মুগ্ধতা ছুঁয়ে যায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যে। ওই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা ছাড়াই মাটির কাছ থেকে উঠে এসেছেন লাইলী বেগম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও ছিলেন মাটির সন্তান। ফেসবুকে লাইলী বাউলের গান দেখে তাঁকে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি লাইলী বেগমকে ফরিদপুর শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
লাইলী বেগমের ভাষায়, ‘আমি কখনো ভাবিনা যে আমি খুব পারদর্শী একজন গায়ক। শুধু আমি একজন আধ্যাত্মিক মানুষ। গানই আমার জীবন। গান ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না। কারণ, গানই মানুষের আত্মার খোরাক। গান গাইলে নিজেরও ভালো লাগে, অন্যেরও ভালোবাসা পাওয়া যায়।’
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পেয়ে দারুণ খুশি লাইলী বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার মতো একজন শিল্পীকে সচিবালয়ে এনে সম্মান জানানো বড় বিষয়। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’



