মা আনোয়ারার স্বপ্নপূরণে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত চিত্রনায়িকা মুক্তির

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আগামী নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। আর এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম-এর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
মুক্তি জানিয়েছেন, শিল্পী সমিতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবার তিনি সরাসরি নেতৃত্বে আসতে চান। তাঁর ভাষায়, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং মায়ের ইচ্ছা, সহকর্মী শিল্পীদের অনুরোধ এবং নিজের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা সব সময় চাইতেন, আমি যেন শিল্পীদের কল্যাণে আরও বড় দায়িত্বে যাই। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আমি যেন শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থেকে কাজ করি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ শুধু মায়ের স্বপ্নই নয়, বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁকে উৎসাহিত করেছে বলে জানান মুক্তি। গত দেড় বছরে তিনি সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
মুক্তি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে শিল্পীদের উপহার বিতরণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে বড় পরিসরে স্মরণসভার মতো উদ্যোগে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল নেতৃত্বাধীন ২০২৪–২৬ কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৪ এপ্রিল। সমিতির গঠনতন্ত্রের ৮ (চ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিন অর্থাৎ ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার নিয়ম। সেই রীতি অনুযায়ী আগামী জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকে নতুন মেয়াদের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। মুক্তির প্যানেল ছাড়াও এবার আরো একটি প্যানেল হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন মুক্তি। এরপর চিত্রনায়ক ওমর সানীর সঙ্গে ‘চাঁদের আলো’ তাকে এনে দেয় আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। ‘তুমি আমার চাঁদ, আমি চাঁদেরই আলো’-গানটি আজও এই তারকার পরিচয়ের অংশ। ‘লড়াই’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’, ‘তুমি আমার স্বামী’সহ নানা সিনেমাতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান এই অভিনেত্রী। সাহসী নারী থেকে প্রেমে ভরা চরিত্র, বিভিন্ন ভূমিকায় তিনি দেখিয়েছেন পরিপক্বতা, যা নির্মাতাদের আস্থা আর দর্শকের ভালোবাসা বাড়িয়েছে। সময় বদলেও ইউটিউবে তার কাজ নতুন প্রজন্মের সঙ্গেও সেতুবন্ধন তৈরি করছে।
সিনেমা ছাড়াও অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন মুক্তি। বেশকিছু নাটক প্রযোজনাও করেছেন। কাজহীন শিল্পীদের জন্য নতুন করে প্রযোজনা নিয়েও ভাবছেন। মুক্তি শুধু একজন শিল্পীই নন দেশের নামকরা বেশকিছু সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। মোট কথা সংগঠন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সমাজ সেবায়ও এই নায়িকার সুনাম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংকটকালে মানবিক কাজেও তাকে দেখা যায়। পর্দার বাইরে মুক্তি শান্ত, পরিবারপ্রেমী ও নিভৃত স্বভাবের মানুষ।



