বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

সুপার এল নিনোর প্রভাব শুরু, বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা

images (3)

বিশ্বজুড়ে আবারও জলবায়ু অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় পৃথিবী শক্তিশালী এল নিনো বা ‘সুপার এল নিনো’র দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ানোর পাশাপাশি বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) নতুন জলবায়ু পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এবারের এল নিনো সুপার পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় ৬৩ শতাংশ।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সংঘটিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসে এবং বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনো হলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।

এনওএএর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাংশ থেকে পূর্বাঞ্চলের দিকে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির প্রবাহ ইতিমধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উষ্ণ পানি সমুদ্রপৃষ্ঠের কয়েক শ ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী অঞ্চলের কাছাকাছি সাগরপৃষ্ঠে উঠে আসতে শুরু করেছে। অতীতের বড় এল নিনো ঘটনাগুলোর সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০১৫-১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব আবারও সুপার এল নিনোর মুখোমুখি হতে পারে। এর আগে ১৯৯৭-৯৮ এবং ১৯৮২-৮৩ সালের শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জলবায়ু বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।

এল নিনো সমুদ্র থেকে বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত তাপ ছড়িয়ে দেয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সাল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে উষ্ণ বছরের রেকর্ড রয়েছে ২০২৪ সালের দখলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অব্যাহত ব্যবহারের কারণে এমন প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব আগের তুলনায় আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে সম্ভাব্য সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে মানবজীবন, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

আশঙ্কাজলবায়ুতাপপ্রবাহদুর্যোগসুপার এল নিনো