বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
রূপ-সৌন্দর্য

তিসিবীজ চুলের জন্য কতটা উপকারী?

images

ঘন, মজবুত ও ঝলমলে চুলের আশায় অনেকেই এখন প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকছেন। সেই তালিকায় জনপ্রিয় একটি নাম তিসিবীজ। ছোট্ট এই বীজে রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আঁশ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন ই–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত তিসিবীজ এখন চুলের যত্নেও বেশ আলোচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তিসিবীজে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং চুলের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে থাকা আলফা–লিনোলেনিক অ্যাসিড (এএলএ) শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভিটামিন বি চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর ভিটামিন ই একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মাথার ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে এবং চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

চুলের যত্নে তিসির তেল বেশ জনপ্রিয়। উদ্ভিজ্জ তেল হিসেবে এটি চুলের কিউটিকেলের ওপর একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে, যা চুলের রুক্ষতা কমায় এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে। ফলে চুল তুলনামূলকভাবে মসৃণ ও কোমল দেখায়।

তিসিবীজ ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তিসির তেল। এটি চুলের মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অল্প পরিমাণ তেল হাতে নিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে মালিশ করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহারের আগেও কিছুক্ষণ তিসির তেল লাগিয়ে রাখা যায়। এ ছাড়া তিসিবীজ দিয়ে তৈরি জেলও অনেকেই ব্যবহার করেন, যা চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শুধু বাহ্যিক ব্যবহার নয়, খাদ্যতালিকাতেও তিসিবীজ যোগ করা যায়। গুঁড়া করা তিসিবীজ ওটমিল, সালাদ, স্মুদি কিংবা অন্যান্য দানাদার খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। বাজারে তিসির তেলের ক্যাপসুলও পাওয়া যায়। তবে যেকোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তবে তিসিবীজ নিয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এটি চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হলেও রাতারাতি চুল ঘন বা লম্বা করে দেয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চুলের স্বাস্থ্য মূলত নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাস, জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ ও সামগ্রিক জীবনযাপনের ওপর।

এ ছাড়া তিসিবীজ বা তিসির তেল ব্যবহারে কিছু সতর্কতাও রয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি পেটফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো হজমজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। অপরিপক্ব বা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত না করা বীজ খেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তচাপ কমে যাওয়া, ত্বকে অ্যালার্জি বা ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলার আশঙ্কাও রয়েছে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তিসিবীজ গ্রহণ করা উচিত। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিসিবীজে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীর সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। এটি প্রথমে অন্য যৌগে রূপান্তরিত হয়, এরপর শরীরের একটি অংশ তা শোষণ করে। তাই শরীরের ওমেগা–৩–এর চাহিদা পূরণে শুধু তিসিবীজের ওপর নির্ভর না করে চর্বিযুক্ত মাছসহ অন্যান্য উৎসও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

সব মিলিয়ে, তিসিবীজ ও তিসির তেল চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক একটি পুষ্টিকর উপাদান। এটি চুলকে কিছুটা মসৃণ ও কোমল করতে পারে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপকারও দিতে পারে। তবে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য কেবল একটি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, ভালো ঘুম এবং নিয়মিত পরিচর্যার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চুলতিসিবীজপ্রোটিন