বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
বিবিধ

পিআইসিইউ পাচ্ছে না মুমূর্ষু শিশুরা, খুঁজতে খুঁজতে নিভে যায় শিশুদের প্রাণ

345678

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) না থাকায় অনেক মুমূর্ষু শিশুকে সময়মতো নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি।
গত ৩১ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী শিশু মিশকাতুর রহমানের মৃত্যু হয়। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, তখনই তার পিআইসিইউ সাপোর্ট দরকার ছিল। কিন্তু হাসপাতালে কোনো শয্যা খালি না থাকায় শিশুটিকে প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও কোনো সহায়তা পাননি।
একই পরিস্থিতিতে আরও অনেক শিশুই প্রাণ হারাচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। গত ৪ জুন চমেকে সাড়ে নয় মাস বয়সী আইমান নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, শ্বাসকষ্ট ও গুরুতর অবস্থার কারণে তাকে দ্রুত পিআইসিইউ দরকার হলেও শয্যা পাওয়া যায়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, দুই দিন অপেক্ষা করেও সন্তানের জন্য পিআইসিইউ জোগাড় করতে পারেননি তিনি। পরে অন্য এক শিশুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার নির্ধারিত শয্যাটিও অন্য রোগীকে দেওয়া হয়।

চমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শিশু বিভাগে মোট ২০টি পিআইসিইউ শয্যা থাকলেও এর মধ্যে ১৫টি শুধু হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ। বাকি পাঁচটি অন্যান্য রোগীদের জন্য। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ জন শিশুর পিআইসিইউ প্রয়োজন হলেও সবসময় শয্যা পূর্ণ থাকায় অনেককেই সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাম ব্লকে পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে রয়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে সেখানে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। ফলে একাধিক শিশুকে একই শয্যায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকেরা। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। গত কয়েক দিনে এই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাজারের বেশি শিশু ভর্তি এবং কয়েকশ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চমেক শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের জটিল অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় পিআইসিইউ শয্যা দ্রুত খালি হয় না। কোনো শিশুর অবস্থা উন্নতি বা মৃত্যু হলে তখনই নতুন রোগী নেওয়া সম্ভব হয়।
চিকিৎসকদের মতে, শয্যাসংকট, রোগীর চাপ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার বেসরকারি হাসপাতালে যেতে পারছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, পিআইসিইউ সংকট ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বল সমন্বয় এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। দ্রুত সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ না করলে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পিআইসিইউপ্রাণমুমূর্ষুশিশুহাম