বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
বিবিধ

চারুকলায় পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতি

436449992_933477724885980_5958440823848547023_n-bf9735d1595d1479f54a9db7741349ba

ঢাকার প্রখর রোদ যেন কেবল চৈত্রের খামখেয়ালি নয়; বরং সৃষ্টির এক অলক্ষ্য অনুঘটক। তপ্ত দুপুরের এই তাপদাহ যখন নগরবাসীকে ক্লান্ত করে তোলে, ঠিক তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণে কান পাতলে শোনা যায় ভিন্ন এক স্পন্দন। সেখানে ঘাম, রং, ক্যানভাস আর তারুণ্যের অদম্য কল্পনা মিলেমিশে তৈরি করছে শিকড়ের উৎসব–বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-কে বরণ করে নেওয়ার এক মহাযজ্ঞ। ৩০ মার্চ চারুকলার জয়নুল গ্যালারির সামনের লবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ণিল কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করা হয়।

পহেলা বৈশাখে বাঙালি মেতে উঠবে বর্ষবরণে। বাংলা বছরের প্রথম দিনকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীরা কেউ ব্যস্ত রঙিন মুখোশ বানাতে, কেউ মাটির সরা রাঙাতে। আবার কেউ কেউ বানাচ্ছেন কাগজের অরিগ্যামি।

এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’। গত ৩১ মার্চ ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিপাদ্য, প্রতীক ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই প্রতিপাদ্য সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের বার্তা বহন করে।

এবারে পাঁচটি প্রধান মোটিফ থাকবে— লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, ঘোড়া, পাখি ও শান্তির প্রতীক পায়রা। প্রতিটি প্রতীকের রয়েছে আলাদা তাৎপর্য। মোরগ নতুন সূচনার প্রতীক, পায়রা শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেয়, দোতারা বাউল সংস্কৃতির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। আর ঘোড়া ও পাখি জীবনের গতি, স্বাধীনতা ও ছন্দকে তুলে ধরে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চারুকলা প্রাঙ্গণে এখন বিরামহীন কর্মযজ্ঞ চলছে। শিক্ষার্থীরা বাঁশ-কাঠ কাটছেন, নকশা তৈরি করছেন, মুখোশ ও নানা শিল্পকর্ম বানাচ্ছেন। এসব শিল্পকর্ম বিক্রি করেও তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

এসবা কাজে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সিমরান নওয়াজ বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতি বছরই আমরা পরিশ্রম করি, তবে এবার অনুভূতিটা আলাদা। আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের শক্ত বার্তা দিতে চাই।”

দিনশেষে উৎসবের নামের বিতর্ক, মতভেদ কিংবা ব্যাখ্যার ভিন্নতা–সবকিছু ছাপিয়ে এই ঘাম-ঝরানো আয়োজন প্রমাণ করে, যে কোনো উৎসবের আসল শক্তি নিহিত থাকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে।

১৪৩৩চারুকলাপয়লা বৈশাখপ্রস্তুতি