সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিবির একটি সূত্র জানা যায়, এর আগে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে লালবাগ থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলায় আটক করা হয়।
২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। লালবাগ থানার মামলায় তাঁকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষের সময় পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্বর্ণ শ্রমিক মুসলিম উদ্দিন(৩৮) নিহত হন। পরবর্তীতে আসামিদের চাপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল তার পরিবার। এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও আরও ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে টানা চার মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী। গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের রাতে তিনি সংসদ ভবনের একটি গোপন কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরে গিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। আজকের আদালতে তোলার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক এই শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারীর গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।



