১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
খাবার-দাবার

গরমে ক্লান্তি? শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখবে এই ৫ পানীয়

36ab6871725e2efb3c5ebccf6d0094e1-66235d2a91cb7

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে জীবন যেন থমকে দাঁড়ায়। গনগনে রোদ আর অস্বস্তিকর গরমে বাইরে বেরোলেই ঘাম ঝরে, এমনকি ঘরেও সামান্য পরিশ্রমে শরীর ভিজে যায়। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ দ্রুত বেরিয়ে যায়, যা থেকে তৈরি হতে পারে পানিশূন্যতা ও লবণশূন্যতার ঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। তাই এ সময় নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

শুধু পানি নয়, এমন কিছু পানীয় রয়েছে, যা শরীরকে শীতল রাখার পাশাপাশি পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় খনিজও সরবরাহ করে। পরিবারের সবাই মিলে সহজেই তৈরি করতে পারেন এমন কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয়—

লেবু-পানি
এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ মিশিয়ে তৈরি করা লেবু-পানি গরমে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। এটি শরীরের লবণের ঘাটতি পূরণে সহায়ক। ডায়াবেটিস না থাকলে সামান্য চিনি যোগ করা যেতে পারে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শরীরের জন্য উপকারী, আর চিনি দ্রুত শক্তি জোগায়।

ডাবের পানি
প্রাকৃতিক এই পানীয় গরমে এক অনন্য আশীর্বাদ। ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকায় এটি শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। ডায়রিয়া হলে এটি বিশেষভাবে উপকারী এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

কাঁচা আমের শরবত
মৌসুমে সহজলভ্য কাঁচা আম দিয়ে তৈরি শরবত গরমে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কাঁচা আমের সঙ্গে লবণ, চিনি, পুদিনা পাতা ও সামান্য কাঁচা মরিচ ব্লেন্ড করে তৈরি করা এই পানীয় শরীরের পানির অভাব দূর করার পাশাপাশি পুষ্টি জোগায়।

পুদিনা পাতার শরবত
পুদিনা পাতা গরমে এক অনন্য প্রশান্তির উৎস। লেবুর রস বা পানির সঙ্গে পুদিনা পাতা মিশিয়ে তৈরি করা শরবত শরীরকে শীতল করে। এটি বমি ভাব দূর করতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক।

মৌরি ভেজানো পানি
পেটের নানা সমস্যায় কার্যকর মৌরি ভেজানো পানি। এটি হজমে সহায়তা করে, গ্যাস কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে এটি পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

পানীয় গ্রহণে কিছু সতর্কতা
গরমে পানীয় বেছে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত বরফ বা খুব ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানীয় শরীরের জন্য বেশি নিরাপদ। ডায়াবেটিস থাকলে চিনি না দেওয়া, উচ্চ রক্তচাপে লবণ কমানো এবং কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পটাশিয়াম এড়িয়ে চলা জরুরি।

তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত পানি ও সঠিক পানীয় গ্রহণের বিকল্প নেই। সামান্য সচেতনতাই এনে দিতে পারে স্বস্তি আর সুস্থতা।

Advertisements