নতুন প্রজন্মের ডেটিংএ বহুল প্রচলিত ৭টি স্ল্যাং

‘জেন–জি’দের ডেটিং জগৎ যেন এক আলাদা ভাষায় চলে। সোশ্যাল মিডিয়া, ভ্লগ আর পপ কালচারের প্রভাবে তাঁদের ডেটিং ডিকশনারিতে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন শব্দ। এসব শব্দ না বুঝলে একসময় মনে হবে যেন তাঁরা এক গোপন কোডে কথা বলছে! তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাইলে জানতে হবে কিছু ট্রেন্ডিং ডেটিং স্ল্যাং। চলুন সহজভাবে জেনে নিই এমনই ৭টি জনপ্রিয় শব্দ ও তাদের মানে।
শ্রেকড (Shrekked) – ভাবুন, আপনি এমন একজনকে ডেট করছেন যিনি আপনার চেয়ে কম যোগ্য, কম স্ট্যাটাস বা কম অর্থনৈতিক অবস্থার। অথচ শেষমেশ সেই মানুষটির কাছ থেকেই আপনি অবহেলা ও কষ্ট পেলেন। এমন অভিজ্ঞতা হলে জেন–জিরা বলেন,“তুমি শ্রেকড হয়েছ।”
কাফিং (Cuffing) – এটি হলো স্বল্প মেয়াদের ‘উষ্ণতা খোঁজা’ সম্পর্ক। সাধারণত শীতকালে সিঙ্গলরা মনের একাকিত্ব কমাতে ৪–৬ মাসের জন্য সম্পর্কে জড়ান। দু’জনেই সম্মত, দু’জনেই জানে এ সম্পর্ক মৌসুমি।
অরবিটিং (Orbiting) – সম্পর্ক শেষ, তবুও যোগাযোগের এক অদৃশ্য সুতো রয়ে যায়।আপনার পোস্ট সে দেখছে, মাঝে মাঝে লাইক বা রিঅ্যাক্ট করছে, স্টোরি দেখছে, কিন্তু কোনো সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার ইচ্ছা নেই। এই ‘ডিজিটাল ঘোরাঘুরি’-কেই বলা হয় অরবিটিং।

কুশনিং (Cushioning) – একটি সম্পর্ক রাখতে রাখতে পাশাপাশি আরেকটি সম্ভাব্য সম্পর্ক জিইয়ে রাখা যেন প্রথমটি ভেঙে গেলে ধাক্কা কম লাগে। মূল সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে গেলে যেন সহজেই দ্বিতীয়টিতে যাওয়া যায়। জেন–জিদের মধ্যে এটি ‘ইমোশনাল সেফটি নেট’ হিসেবে পরিচিত।
পকেটিং (Pocketing) – যখন কেউ নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বন্ধু বা পরিবারের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চায় না তখন তাকে বলা হয় পকেটিং। মানে সম্পর্ক আছে, কিন্তু লুকিয়ে রাখা।
ডিলিউশনশিপ (Delutionship) – এটি এক ধরনের কল্পিত সম্পর্ক। একজন মনে মনে ধরে নেয়, “ও আমাকে ভালোবাসে”, “আমাদের বিশেষ কানেকশন আছে”। যদিও অপরপক্ষ এতে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। কল্পনা আর বাস্তবের ফারাকটাই হলো ডিলিউশনশিপের মূল।
ক্যাননবলিং (Cannonballing)
খুব কম সময়ে দ্রুত সম্পর্কের গভীরে চলে যাওয়া। যেমন-
- কয়েকদিনের পরিচয়ে ‘ইন আ রিলেশনশিপ’ দেওয়া,
- বন্ধু–পরিবারে পরিচয় করানো,
- হঠাৎ একসঙ্গে থাকা শুরু করা,
- অথবা বিয়ের পরিকল্পনায় ঝাঁপিয়ে পড়া।
- সব মিলিয়ে দ্রুতগতির কমিটমেন্টই হলো ক্যাননবলিং।
সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন বদলেছে, আর তার সঙ্গে বদলেছে ডেটিং ভাষাও। এই স্ল্যাংগুলো জানলে শুধু নতুন প্রজন্মকে বোঝা সহজ হবে না। বরং সম্পর্ক বা যোগাযোগের অনেক আধুনিক আচরণও পরিষ্কারভাবে ধরতে পারবেন।



