বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

হাওয়া বদলের সময়ে শিশুর ত্বক ও চুলের যত্ন

10-ZM1023982

শীত পুরোপুরি নামতে এখনও সময় বাকি। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি, হালকা ঠান্ডা ও মাঝে মাঝে রোদের কারণে আবহাওয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বড়দের জন্য এই আবহাওয়া খুব ক্ষতিকর না হলেও শিশুদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় অনেক শিশু জ্বর, সর্দি-কাশি, ত্বকের সংক্রমণসহ নানা সমস্যায় ভুগে। তাই শিশুর নাজুক ত্বক ও চুলের যত্নে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এই সময়ে শিশুর গোসলের ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। জন্মের ৭২ ঘণ্টা পর থেকে প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যায়। তবে কম ওজনের বা সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গোসল করানো উচিত নয়। নবজাতক ও ছোট শিশুদের গোসলের সময় দীর্ঘ না হওয়াই ভালো। বেশি গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। তাই কুসুম গরম পানি সবচেয়ে উপযোগী।

গোসল শেষে শরীর ভালোভাবে মুছে অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা শিশু উপযোগী লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। শুষ্ক ত্বকে চর্মরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে দুই থেকে তিনবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে উপকার মিলবে। তবে সরিষার তেল থেকে দূরে থাকুন। এটি ত্বকে অ্যালার্জি, প্রদাহ, এমনকি মাথার ত্বকে খুশকির প্রবণতা বাড়াতে পারে। কেউ কেউ নাক বা কানে সরিষার তেল দেন, এটা সম্পূর্ণ ভুল। শিশুদের জন্য তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়, তবে ব্যবহার করার পর যদি অ্যালার্জি দেখা দেয় তাহলে তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে।

দূষণ ও ধুলাবালির কারণে শিশুদের চুল দ্রুত নোংরা হয়ে যায়, এবং খুশকি হতে পারে। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করা উচিত। গোসলের পর চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিন এবং নিয়ম করে আঁচড়ে দিন। মাঝে মাঝে শ্যাম্পুর এক ঘণ্টা আগে নারকেল তেল ম্যাসাজ করলে চুল নরম ও ঝরঝরে থাকে।

Advertisements

ঋতু বদলের সময়ে শিশুকে পাতলা, নরম ও সুতির কাপড় পরানো ভালো। শিশু ঘেমে গেলে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া মাথার ত্বক যেন সব সময় শুকনা থাকে, খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘাম মুছে দেওয়া যেতে পারে।

হাওয়া বদলের সময় শিশুদের ত্বক ও চুল খুব দ্রুত প্রভাবিত হয়। একটু যত্ন ও সতর্কতায় এই মৌসুমি সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। তাই গোসল, তেল-ময়েশ্চারাইজার, চুলের পরিচর্যা ও আরামদায়ক পোশাকে গুরুত্ব দিন। সুস্থ ত্বক আর পরিচ্ছন্ন চুলে শিশুর মন-মেজাজও থাকবে ভালো।

Advertisements