কাজে বের হওয়ার সময় শিশুর কান্না থামছে না?

চাকরি আর সংসার দুটোই সামলানো আজকের বাবা–মায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে মায়েরা অফিসে বের হতে গেলেই অনেক সময় ছোট্ট সন্তান ফুঁপিয়ে কাঁদে। মা দূরে থাকবেন, এই ভাবনাই তার মনে ভয় আর অস্থিরতা তৈরি করে। চিকিৎসকরা একে বলেন সেপারেশন অ্যাংজাইটি। তবে কিছু ছোট কৌশল মানলেই এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
রুটিনের অভ্যাস গড়ে তুলুন – শিশু নিয়ম মেনে চললে তার মন শান্ত থাকে। প্রতিদিন আপনি কখন কখন তার সঙ্গে থাকবেন এমন একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। এতে সে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।
দেরি না করে বিদায় জানান – বের হওয়ার আগ মুহূর্তে দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং ঘোরাফেরা শিশুর উদ্বেগ বাড়ায়। বরং সময় মতো প্রস্তুত হয়ে কোমলভাবে বিদায় জানান। দৃঢ়তা শিশুকে আশ্বস্ত করে।

পরিচিত ও বিশ্বস্ত যত্নদাতা – শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য এমন কাউকে রাখুন, যার সঙ্গে শিশুর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পরিচিত মুখ পাশে থাকলে তার ভয় কমে যায়।
লুকিয়ে বের হবেন না – অনেক মা–বাবা মনে করেন, শিশু কান্না করলে চুপিচুপি বেরিয়ে যাওয়াই ভালো। কিন্তু এতে শিশুর মনে সন্দেহ জন্মায়। সে ভাবতে পারে মা–বাবা যে কোনও সময় হারিয়ে যেতে পারেন। এজন্য কাজে বের হবার সময়ে বলুন, “আমি কাজে যাচ্ছি, ফিরব।” এতে নিরাপত্তা বোধ বাড়ে।
মাঝে মাঝে ফোন বা ভিডিও কল করুন – সময় পেলে শিশুকে দেখে নিন। তাকে দেখান আপনি ভালো আছেন, কাজ করছেন এবং ফিরে আসবেন। এতে তার মনে শান্তি আসে।

ছুটির দিনে বেশি সময় দিন – শিশু যেন জানে সপ্তাহে কিছু দিন ব্যস্ততা থাকলেও ছুটিতে পুরো সময়টা তার। খেলুন, গল্প করুন, একসঙ্গে সময় কাটান। এতে মানসিক বন্ধন দৃঢ় হয় আর ভয় কমে যায়।
সেপারেশন অ্যাংজাইটি শিশুর বড় হওয়ার স্বাভাবিক ধাপ। ধৈর্য, নিয়ম এবং যত্নেই তাকে এর মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আপনি শান্ত থাকলে, শিশুও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।



