মানুষের ভালোবাসায় এগিয়ে চলা ডলি জহুর

বাংলাদেশের অভিনয় জগতের অন্যতম প্রিয় মুখ ডলি জহুর। কয়েক দশকের অভিনয় জীবন তাঁকে দিয়েছে অগণিত দর্শকের ভালোবাসা। টেলিভিশন নাটক, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র—সব জায়গাতেই সমান দক্ষতায় কাজ করে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব অবস্থান। অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা ও একুশে পদক।
এখনো নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন এই গুণী শিল্পী। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি তিনি ফিরেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি ধারাবাহিকে। নাটকের নাম ‘ধূসর প্রজাপতি’। পরিচালনায় আছেন তৌকীর আহমেদ। সেখানে মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন ডলি জহুর।
“ধূসর প্রজাপতি’তে অভিনয় করে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি,” জানালেন তিনি। “অনেকেই বলছেন—নব্বই দশকের নাটকের আবহ ফিরে এসেছে। দর্শক নাটকটি দেখছেন, প্রশংসা করছেন, এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া।”
নাটকটি পারিবারিক গল্প নিয়ে। আমাদের প্রতিদিনকার জীবনের গল্প। তাই দর্শকের কাছে সহজেই পরিচিতি পাচ্ছে। ডলি জহুরের ভাষায়, “গল্পটা এমন, যে কেউ দেখে বলবেন—এ তো আমাদেরই গল্প।”
দীর্ঘ ধারাবাহিকে এতদিন পর কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি। বললেন, “ভালো লেগেছে বলেই করেছি। প্রস্তাব পেয়ে আনন্দে রাজি হয়েছি। গতানুগতিক নয়, একটু ভিন্নধর্মী কাজ।” শুটিংয়ের সময় পায়ে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও ভালোবাসা দিয়ে কাজটি করেছেন তিনি।
পরিচালক তৌকীর আহমেদ সম্পর্কে ডলি জহুরের বিশেষ মন্তব্য—“তৌকীর একজন মেধাবী পরিচালক, পাশাপাশি ভালো অভিনেতাও। তাঁর কাজ গোছানো। আবুল হায়াত ভাই যেমন কাজ করেন, তিনিও তেমন।”
এই নাটকে সহশিল্পী হিসেবে আছেন আরেক গুণী অভিনেতা আল মনসুর। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ডলি জহুর বলেন, “অনেকদিন পর তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি বড় মাপের অভিনেতা। তাঁর সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে।”
বিটিভির আগের নাটকের স্মৃতিও ফিরে এল তাঁর কথায়। “আগে তো একটি মাত্র চ্যানেল ছিল। দর্শকের মনোযোগ ছিল সেখানেই। এখন অনেক মাধ্যম বেড়েছে, তবু ভালো কাজ মানুষ এখনো গ্রহণ করছেন। ‘ধূসর প্রজাপতি’ তার প্রমাণ।”
ডলি জহুরকে বলা হয় মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের এক প্রতীকী নাম। এ বিষয়ে তিনি বললেন, “মায়ের চরিত্রে অভিনয় সবসময়ই এক বিশেষ অনুভূতি। অনেকেই আমাকে মা বলে ডাকেন। খুব ভালো লাগে।”
তাঁর ক্যারিয়ারের এক উজ্জ্বল স্মৃতি ‘শঙ্খনীল কারাগার’ সিনেমার রাবেয়া চরিত্র। সেই চরিত্র দিয়েই তিনি পেয়েছিলেন অসংখ্য দর্শকের প্রশংসা ও ভালোবাসা। “এখনো মানুষ সেই চরিত্রটির কথা বলে, প্রশংসা করে,” বললেন ডলি জহুর।
জীবনের অভিজ্ঞতা আর শিল্পযাত্রা নিয়ে তাঁর সহজ অথচ গভীর উপলব্ধি—
“মানুষের ভালোবাসা নিয়েই এতদূর এসেছি। শিল্পের পথে দীর্ঘদিন ধরে হাঁটছি। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।”



