বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
স্পটলাইট

শিশুর মস্তিষ্ক ও শরীরে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব

IMG-20250926-WA0000

প্লাস্টিকজাত শিল্প ও গৃহস্থালি সামগ্রীতে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে ফ্যাথালেটস, বিসফেনলস ও পিএফএএস নামের তিন ধরনের উপাদান গর্ভবতী নারী, গর্ভস্থ ভ্রূণ ও শিশুদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনওয়াইইউ ল্যাংগোন হেলথ সম্প্রতি শত শত গবেষণা বিশ্লেষণ করে জানায়, এসব রাসায়নিক হৃদরোগ, স্থূলতা, বন্ধ্যাত্ব, হাঁপানি, মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতা, এমনকি অটিজম ও মনোযোগের ঘাটতির মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ সাময়িকীতে।

কিভাবে শরীরে প্রবেশ করছে

খাবারের প্যাকেজিং, প্রসাধনী, কাগজের রসিদসহ নানা পণ্য থেকে এই উপাদানগুলো শরীরে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক গরম বা প্রক্রিয়াজাত হলে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপার্টিকল তৈরি হয়ে খাবারের মাধ্যমে দেহে ঢোকে। এগুলো হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর ফলে শিশুদের আইকিউ হ্রাস, এডিএইচডি, অতিসক্রিয়তা ও অন্যান্য স্নায়ুবিক সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্লাস্টিকের ভূমিকা

ফ্যাথালেটস প্লাস্টিককে নমনীয় করে।

বিসফেনলস প্লাস্টিককে মজবুত করে।

পিএফএএস প্লাস্টিককে তাপ ও পানি প্রতিরোধী করে তোলে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি

গবেষণার প্রধান লেখক শিশু বিশেষজ্ঞ ড. লিওনার্দো ট্রাসান্ডে বলেন, প্লাস্টিক শিল্প অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই এর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিজনিত চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার।

পরামর্শ ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কিছু করণীয় তুলে ধরেছেন—খাবার সংরক্ষণে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা

মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিক পাত্রে খাবার গরম না করা

প্লাস্টিক ডিশওয়াশারে না ধোয়া

অভিভাবকদের সচেতন করে নিরাপদ বিকল্প বেছে নিতে উৎসাহ দেওয়া

বৈশ্বিক আহ্বান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা খাতে ভেন্টিলেটর, ফিডিং টিউব বা নেবুলাইজারের মতো ক্ষেত্রে প্লাস্টিক অপরিহার্য। তবে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার অবশ্যই কমাতে হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের দেশগুলোয় সচেতনতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি, কারণ এসব দেশে প্লাস্টিক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি এবং স্বাস্থ্যবৈষম্যও প্রকট।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক গ্লোবাল প্লাস্টিকস ট্রিটি আলোচনায় শতাধিক দেশ প্লাস্টিক উৎপাদনে সীমা আরোপ ও আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরির দাবি জানিয়েছে।

Advertisements