বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
বিনোদন

বন্ধুর মৃত্যুর পরই বদলে যায় দীপিকার পথচলা

20260429-img-20260429-8850b66954cd84ff

২০১৫ সালে যখন নিজের বিষণ্নতার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন, তখন তা শুধু বলিউড নয়, পুরো ভারতজুড়েই আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দেশের শীর্ষ তারকাদের একজন হয়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এত খোলামেলা বক্তব্য দেওয়া সে সময় খুব একটা দেখা যেত না। অনেকের কাছে এটি ছিল সাহসী পদক্ষেপ, আবার কারও কাছে ছিল চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা।

তবে দীপিকার সেই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল আরও গভীর এক মানবিক গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার বাবা, ভারতের কিংবদন্তি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাড়ুকোন জানিয়েছেন, মেয়ের মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে কাজ করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু।

‘দ্য সামথিং বিগার শো’-তে কথা বলতে গিয়ে প্রকাশ পাড়ুকোন বলেন, দীপিকা যখন নিজের ডিপ্রেশনের অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি ও তার স্ত্রী উজ্জ্বলা পাড়ুকোন পুরোপুরি মেয়ের পাশে ছিলেন। বরং তারা বিশ্বাস করতেন, জনপ্রিয় একজন মানুষ হিসেবে দীপিকা যদি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, তাহলে অনেক মানুষ সাহস পাবে।

প্রকাশ পাড়ুকোনের ভাষায়, ‘ও যদি অন্য মানুষকে সাহায্য করতে পারে, তাহলে প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা জানানো নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। দীপিকা বুঝতে পেরেছিল যে সে এমন এক অবস্থানে আছে, যেখান থেকে অনেক মানুষের উপকার করতে পারে। তাই সে সামনে এসে কথা বলেছিল।’

নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রামের কথা প্রকাশ করার পর দীপিকা প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য লিভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য ছিল মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং চিকিৎসা নেওয়া নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করা। কিন্তু এই উদ্যোগের পেছনে ছিল আরও একটি নাড়া দেওয়া ঘটনা।

প্রকাশ পাড়ুকোন জানান, মেয়ের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ঘটনা ঘটেছিল কয়েক মাস পর। দীপিকার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

‘কয়েক মাস পরে ওর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু হয়। তখনই ও অনুভব করে, এমন কিছু করা প্রয়োজন, যাতে আরও বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। সেখান থেকেই ফাউন্ডেশন গঠনের চিন্তা শুরু হয়,’ বলেন প্রকাশ।

তার মতে, অনেক তারকা নারী অধিকার, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য সামাজিক ইস্যু নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু দীপিকা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছিলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। সেই কারণেই তিনি এই বিষয়টিকে নিজের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।

‘আমি ওকে বলেছিলাম, তুমি যা করতে চাও, নিশ্চিন্তে করো। এটা তোমার সিদ্ধান্ত। আমরা সব সময় তোমার পাশে থাকব। আমার মনে হয়েছে, এটা সত্যিই ভালো একটি উদ্যোগ,’ বলেন প্রকাশ।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও সংকোচের কথাও তুলে ধরেছেন প্রকাশ পাড়ুকোন। তার মতে, সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে চান না, যদিও অধিকাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সময়মতো চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

প্রকাশের ভাষায়, উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভুগলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়ায় লজ্জার কিছু নেই। গত এক দশকে ‘দ্য লিভ লাভ লাফ ফাউন্ডেশন’ এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করেন তিনি।

তবে শুরুতে দীপিকার এই উদ্যোগ সহজভাবে নেয়নি সবাই। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, এটি কি প্রচারের কৌশল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ আছে। পরে এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা নিজেই জানান, এমন নানা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।

সমালোচনা সত্ত্বেও লক্ষ্য থেকে সরে যাননি তিনি। বরং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে স্বাভাবিক আলোচনা গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে গেছেন। তার স্বপ্ন, একদিন ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা গলি ক্রিকেট নিয়ে আলোচনার মতোই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এদিকে অভিনয়জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন দীপিকা। সবশেষ তাকে দেখা গেছে ‘কালকি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমায়। সামনে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ এবং পরিচালক অ্যাটলির নতুন ছবিসহ একাধিক বড় প্রকল্প রয়েছে তার হাতে।

ডিপ্রেশনদীপিকা পাড়ুকোনপ্রকাশ পাড়ুকোনমৃত্যু