বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
বিনোদন

গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনের আজ জন্মদিন

sabina

সুরেলা কণ্ঠে যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছেন, আজ তাঁর ৭২তম জন্মদিন । গানের পাখি নামে খ্যাত জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল প্রবল ঝোঁক। দীর্ঘ সংগীত জীবনে প্রায় ১০ হাজার গান গেয়েছেন বাংলা গানের এ কিংবদন্তি শিল্পী।

১৯৬৭ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে গান গেয়ে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সাবিনা ইয়াসমিন। সেই থেকেই শুরু। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গানের পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান থেকে শুরু করে উচ্চাঙ্গ, ধ্রুপদী, লোকসঙ্গীত ও আধুনিক বাংলা গানসহ বিভিন্ন ধারার নানান আঙ্গিকের সুরে গান গেয়ে নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

“তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা”, “সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী”, “যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো” কিংবা “এমনও প্রেম হয়”— একের পর এক কালজয়ী গান আজও বাঙালির আবেগকে নাড়া দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি ছিলেন সংগীতের ফ্রন্টলাইনে। তার কণ্ঠে গাওয়া দেশাত্মবোধক গান মুক্তিকামী মানুষকে জুগিয়েছে সাহস ও অনুপ্রেরণা।

সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া অসংখ্য গানের মধ্যে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মা গো’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই’, ‘চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও’, ‘দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা’, ‘এ সুখের নেই কোনো সীমানা’ ও ‘আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা’।

Advertisements

তার দেশাত্মবোধক গানের মধ্যে ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও আমার বাংলা মা’, ‘মাঝি নাও ছাড়িয়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ’ ও ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’ উল্লেখযোগ্য। ভারতের বরেণ্য সুরকার আরডি বর্মণের সুরে গান করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। কিশোর কুমার ও মান্না দে’র সঙ্গে দ্বৈতগানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা। সাবিনা ইয়াসমিন শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলা গানের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

Advertisements