ডিপফেকের শিকার শতাধিক তারকা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার ও এর সহজলভ্যতার ফলে ডিপফেক প্রযুক্তি এখন বিশ্বব্যাপী একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পর এবার বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনও এর ভয়াবহ শিকার। শতাধিক নারী তারকার ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত সম্মানহানি নয়, প্রশ্ন উঠেছে নারীর নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অধিকার নিয়েও।
ডিপফেকের ভয়াবহতা নিয়ে প্রথম আলোচনায় আসে বলিউড অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার একটি ভুয়া ভিডিওকে ঘিরে। এরপর একে একে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, আলিয়া ভাট, কাজলসহ অনেক তারকার একই ধরনের ভুয়া কনটেন্ট ভাইরাল হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি।
বাংলাদেশ গত কয়েক মাসে অন্তত ৬০ জনের বেশি তারকার ডিপফেক ছবি শনাক্ত করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী, বিদ্যা সিনহা মিম, মাহিয়া মাহি, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, তানজিন তিশা, সুনেরাহ বিনতে কামাল, প্রার্থনা ফারদিন দিঘীসহ অনেকে। এ ছবি বা ভিডিওগুলোতে মূলত বিদেশি নারীদের দেহে স্থানীয় তারকাদের মুখ বসানো হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে এত নিখুঁতভাবে করা হয় যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে আসল-নকল বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে বলেন,“ এআই যখন ভুল মানুষের হাতে পড়ে, তখন তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নারী শিল্পীদের জন্য এটি ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতা। টাকার লোভে আমাদের ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দিচ্ছে অনেকেই। এটি অনৈতিক এবং অবশ্যই অপরাধ।” তিনি আরও বলেন, এখনই সময় কঠোর আইন, সচেতনতা এবং নারীর প্রতি সম্মানজনক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার।
ডিপফেক প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে কদরুদ্দীন শিশির বলেন, বিষয়টি শুধু প্রযুক্তিগত নয়, এটি একটি মানবাধিকার ও নৈতিকতার প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, “ কিছু লোক এআই দিয়ে এসব ছবি বানিয়ে টাকা কামাচ্ছে। অথচ অন্যের অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার এক কথায় বেআইনি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের “ টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট”- এর মতো আইন আমাদের দেশেও হওয়া জরুরি। আমাদের দেশে সেটা নেই। কারো অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও বানিয়ে প্রকাশ করা অপরাধ। বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩- এর আওতায় এই অপরাধ দণ্ডনীয়। ভুক্ত ভোগীরা অভিযোগ জানাতে পারবে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সহ বিভিন্ন অভিযোগকেন্দ্রে।



