বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
বিনোদন

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে, পরে যাকে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলেছিলেন দিলীপ কুমার

article-l-20241029520551575315000-xl

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার ও অভিনেত্রী সায়রা বানুর প্রেমের গল্প একসময় ভারতীয় সিনেমা দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি ছিল। তবে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে এমন এক অধ্যায় এসেছিল, যা আজও অনেক ভক্তকে অবাক করে। বিয়ের ১৬ বছর পর গোপনে আরেক নারীকে বিয়ে করেছিলেন দিলীপ কুমার। পরে সেই সিদ্ধান্তকেই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি।

১৯৬৬ সালে ৪৪ বছর বয়সে দিলীপ কুমার বিয়ে করেন ২২ বছর বয়সী সায়রা বানুকে। বয়সের বড় ব্যবধান নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনা হলেও সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু ১৯৮২ সালে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে খবর, দিলীপ কুমার দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। তার নতুন স্ত্রীর নাম ছিল আসমা রেহমান।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল, এই খবর প্রথমে সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন সায়রা বানু। শুরুতে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাননি। কারণ স্বামীর প্রতি তার আস্থা ছিল অটুট। কিন্তু পরে সত্য সামনে আসতেই ভেঙে পড়েন তিনি।

নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য সাবস্ট্যান্স অ্যান্ড দ্য শ্যাডো’–তে পুরো ঘটনার বিস্তারিত লিখেছিলেন দিলীপ কুমার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হায়দরাবাদে একটি ক্রিকেট ম্যাচে প্রথম পরিচয় হয়েছিল আসমা রেহমানের সঙ্গে। অভিনেতার বোনেরাই তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল, আসমা বিবাহিত এবং তিন সন্তানের মা।

দিলীপ কুমার লিখেছেন, পরে তিনি লক্ষ্য করেন আসমা ও তার স্বামী প্রায় সব জায়গাতেই উপস্থিত থাকছেন। এমনকি তার ব্যক্তিগত সময়সূচিও যেন আগে থেকেই জানা ছিল তাদের। অভিনেতার দাবি, ধীরে ধীরে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে তিনি সম্পর্কের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে বাধ্য হন।

তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর খুব দ্রুতই নিজের ভুল বুঝতে পারেন দিলীপ কুমার। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছিলেন, ‘সায়রাকে যে কষ্ট দিয়েছি, তার আমার প্রতি যে অটুট বিশ্বাস ছিল, তা ভেঙে দিয়েছি—এই অপরাধ আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না, নিজেকেও ক্ষমা করতে পারব না।’

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে দিলীপ কুমার নিজের ভুল স্বীকার করে সায়রা বানুর কাছে ক্ষমা চান। তিনি সায়রাকে অনুরোধ করেছিলেন কিছুটা সময় দিতে, যাতে আইনগত প্রক্রিয়ায় আসমা রেহমানের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে আবার সংসারকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়।

কঠিন সেই সময়েও স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সায়রা বানু। দিলীপ কুমারের ভাষায়, নিজের ভুল স্বীকার করার পর সায়রা তাকে সময় দিয়েছিলেন এবং ১৬ বছরের দাম্পত্য সম্পর্ককে রক্ষা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে আসমা রেহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদ সম্পন্ন করেন দিলীপ কুমার। এমনকি লিখিতভাবে সায়রাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি আর কখনো দ্বিতীয় বিয়ে করবেন না। এটি ছিল সেই প্রতিশ্রুতিরই পুনরাবৃত্তি, যা একসময় সায়রার পরিবারকেও দিয়েছিলেন তিনি।

পরে পুরো ঘটনাকে জীবনের গভীর সংকট হিসেবে দেখেছিলেন দিলীপ কুমার। তার বিশ্বাস ছিল, এই কঠিন অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ককে আরও শক্ত করেছে। সব ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন দিলীপ কুমার ও সায়রা বানু। ২০২১ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সায়রাই ছিলেন অভিনেতার সবচেয়ে বড় ভরসা ও সঙ্গী।

দিলীপ কুমারবলিউড