Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ছবি-ভিডিও’র মাধ্যমে নারীকে ব্ল্যাকমেইলিং, বন্ধ হবে কবে

ভালোবাসার মানে কী ? তা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা । ভালোবাসার বাস্তব সংজ্ঞা আজ পর্যন্ত কেউ পরিষ্কার করতে পারেননি । তবে একেক জন একেকভাবে ভালোবাসাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

অনেকেই মনে করেন আবেগ আর ভালোবাসা এক নয়। তবে, তা পুরোপুরিভাবে ঠিক নয়। কারণ আবেগ হলো ভালোবাসার একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ । তবে আবেগ ছাড়া কোনো ভালোবাসা হতে পারে না। প্রতিটা ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝেই আবেগ থাকে। ভালোবাসায় যদি আবেগের পরিমাণ বেশি থাকে, তবে সেই ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝে অনেক কষ্ট থাকে। আর যদি আবেগের পরিমাণ কম হয়, তবে সেই ভালোবাসার সম্পর্কে কষ্ট কম থাকে।

ভালোবাসার কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। মানে ভালোবাসাকে খুব কম কথায় বোঝানো যায় না বা ব্যাখ্যা করা যায় না। তাই অনেক কবি-সাহিত্যিক ভালোবাসা নিয়ে অনেক উক্তি করে গেছেন। কিন্তু কেউ ভালোবাসার পূর্ণ সংজ্ঞা দিতে পারেননি। কারণ তারা সবাই বলে গেছেন ভালোবাসা অনেক বড় বিষয়, যা সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা সম্ভব নয়। ভালোবাসা আসে মন থেকে, এটা সব মানুষই বুঝতে পারে, মানে কেউ যদি আপনার সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় করে, তাহলে আপনি তা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটা বুঝতে অনেক সময় লাগে, যখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

প্রেম-ভালোবাসায় আকর্ষণ বিষয়টি সরাসরি জড়িত। আকর্ষণ একবার শেষ হয়ে গেলে চাইলেও দুজন মানুষ আর একসঙ্গে থাকতে পারে না। ভালোবাসায় শারীরিক প্রেমও রয়েছে। বর্তমানে ভালোবাসার সঙ্গে শরীরের সম্পর্কই যেন বেশি। প্রেমে পড়ার কদিন পরেই প্রেমিক-প্রেমিকা জড়িয়ে পড়ে শারীরিক সম্পর্কে। ন্যুড ছবি বা ভিডিও আদান প্রদান যেন একদমই স্বাভাবিক ব্যাপার তাদের কাছে। একসময় যদি সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়ায়, তখন এই ছবি বা ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করা যেন নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই সংবাদপত্রের পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে ‘ব্ল্যাকমেইলের কারণে তরুণীর আত্মহত্যা’। একসময়ের ফুলেল প্রেম পরিণত হয় কণ্টকাকীর্ণতায়।

সম্পর্কে একজনের প্রতি অন্যজনের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হয়। ভালোবাসায় সম্মান, শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্বাস এই ব্যাপারগুলো খুব করে দরকার। দুজনের মধ্যে এমন জায়গা থাকতে হবে, যেন বিচ্ছেদের পরেও থাকে সম্মান শ্রদ্ধাবোধ। সম্পর্কের কয়েক বছর পর দুজনের মতের মিল না থাকা খুব স্বাভাবিক। আর এভাবে অমত নিয়ে জীবন পার করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এরকমও হওয়া উচিত নয় যে, বিচ্ছেদের পর ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত হতে হবে। সম্পর্কে বিচ্ছেদের পর ব্ল্যাকমেইলিং করার অনেক কারণ থাকতে পারে। আমার মতে, ১. লোভ ২.শারীরিক চাহিদা ৩. প্রতিশোধ এই ৩ টি প্রধান কারণ।

লোভ
মানুষের সবথেকে বেশি লোভ থাকে টাকার প্রতি। আর যদি কারো ন্যুড ছবি হাতে থাকে তাহলে ব্যাপারটা একদম সহজ হয়ে যায়। সম্পর্কে প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে অনেক রকম কথা হয় বা ছবি আদান-প্রদান হয়। বিচ্ছেদের পর প্রেমিকাকে এই ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেকেই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। তাদের টাকার প্রতি লোভ একসময় ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার নারী বা তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এককথায় টাকার জন্য মৃত্যু।

শারীরিক চাহিদা
প্রত্যেক নরনারীর জন্য শারীরিক চাহিদার প্রয়োজন। সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই নরনারীর মিলন ঘটে আসছে। ছেলে-মেয়ে বৈবাহিক সম্পর্কের পর পরস্পর মিলিত হয়। কিন্তু বর্তমানে বিয়ের আগে ছেলে মেয়ের শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো অতি স্বাভাবিক। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যই প্রেমে জড়ায়। যদি মেয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে নিষেধ করে, তখন ছবি বা ছবি এডিট করে ব্ল্যাকমেইলিং করে তা আদায় করতে চায় বা করে। তাই শারীরিক চাহিদাও হতে পারে ব্ল্যাকমেইলিয়ের অন্যতম একটি কারণ।

প্রতিশোধ
প্রেমে পড়া স্বাভাবিক। একটা ছেলের একটা মেয়েকে ভালো লাগতেই পারে। আবার মেয়েটারও ছেলেটাকে ভালো না লাগতে পারে। প্রেমের প্রস্তাব মেয়েটা নাকচ করে দেয়। কিন্তু অনেক ছেলেই এই নাকচ করাটা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। তাই মেয়ের ছবি সংগ্রহ করে এডিট করে ব্ল্যাকমেইলিং করে। তাই প্রতিশোধও হতে পারে অন্যতম কারণ।

ন্যুড ছবি বা ছবি এডিট করে ব্ল্যাকমেইলিং একটি সামাজিক ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিকারে দেশের আইন কানুনের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। যারা এরকম ঘৃণিত কাজ করে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ