Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রেম ও জীবনবোধ

হাত বাড়িয়েছো বলে তোমার বড় অহংকার
তুমি নাকি কবিতার ফেরিওয়ালাকে পেয়ে
সূর্য দেখাই বাদ দিয়েছো
আরে বোকারাম, জানোই না! 
কবি তোমাদের মতো প্রেম করতে জানে না বলে
নিজস্ব প্রেম-দর্শন দিয়ে কাব্যপাড়া মাতিয়ে তোলে

অথচ তুমি আমাকে চাঁদ দেখতে তাগিদ দাও
আরে বোকাকান্ত, চাঁদ দেখতে দেখতে ওটা গোটাটাই যে চোখের ভেতর ঢুকে গেছে সেটিও তুমি জানো না!
আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে রাতের তিস্তা কিংবা বঙ্গোপসাগরে সংগ্রামী ধীবরকে
জীবনের জয়গান শুনাবে কে?

 

আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে খাদ্যবোঝাই 
জলজাহাজের নিশি-শ্রমিক হবে কে?
আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে নিশিকন্যার 
ইজ্জত-বেচা কামাই ছিনতাই হতে রক্ষা করবে কে?
আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে ঢেউ খেলানো পদ্মার জলে জোছনা-ঢেউ দিবে কে?

 

আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে নির্ঘুম পাখি
দীঘল রাত পাড়ি দিবে কাকে নিয়ে?
আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে পদ্মবিলের
জোড়াহারা ডাহুকের ডাহুকী খুঁজে দিবে কে মাঝরাতে?
আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে কে পথভোলা
হাঁসগুলোকে রাস্তায় তুলে দিবে এ রাতবিরেতে?
আমি যদি চাঁদকে না দেখি তাহলে ভোরের বাতাসের আলতো আদুরে ঝাপটায় আলগোছে গোলাপ কলিটির পাপড়ি মেলা দেখবে কে?

 

আরে বোকা চণ্ডী, আমি কেবল চাঁদ দেখি না
চাঁদিমায় সাঁতরাই, জোছনায় আশপাশ হাতরাই
জীবন, জগত দেখি।
আমি চাঁদে গেলে ওর তাবৎ কান্তি কুড়িয়ে কুড়িয়ে এ মনে গোলাজাত করি
একমুঠ পাটশলা সূর্যের শরীরে ধরে আগুন নিয়ে 
ওগুলো তপ্ত করি
এবং মনের মাধুরী মিশিয়ে নকশা আঁকি
বিমূর্ততার বুননে গহনা পরায়ে আমি 
প্রকৃতির মূর্তমান সমুদয় উপাদান রূপে অপরূপ করে তুলি;
তোমার ভালবাসাকে সে-ই কবে এমনি একটি
গহনা পরিয়েছি, বোকা মেয়ে, আজও তুমি টের-ই পাওনি।

 

তুমি নাকি আমার চব্বিশ ঘণ্টা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করো!
শোনো-
শ্বাশত বিশ্বাসের সড়কে হাঁটা চলা করি চার ঘণ্টা
শান্তি শান্তি এক অপার্থিব সুখ 
আমাকে জড়িয়ে ধরে
স্বপ্নকে মানুষ করি স্বপ্নচারী শিশুদের জ্ঞানবাগে
এ ছয় ঘণ্টা আমার শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।

 

পাঁচ-ঘণ্টা আধবোজা চোখে স্বপ্নে হাসি, স্বপ্নে কাঁদি
স্বপ্নে ভাবি আর 
আঁধারের গায়ে হন্যে হয়ে আলো খুঁজি
ঘণ্টা দু'য়েক ঘাপটি মেরে তপোবনে থাকি 
শব্দ-শিকার করাটা বাঘ শিকারের চেয়ে বড় কষ্টকর। 

 

সমাজ ও রাষ্ট্রের ত্রাণ তহবিলে চাঁদা দেই দু'টি ঘণ্টা
নিজেকে গর্বিত মনে হয় ভালো কাজও করতে পারি বলে
দুই ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে তোমার মনটা পড়ি 
কখনো তোমাকে তরজমা করি
এতো পড়ি এতো লিখি শেষ করতে পারি না, বড় রহস্যময় 
এ উপন্যাস!

 

রক্তের সাথে মিশতে কাটে এক ঘণ্টা
এতে আমি নীরোগ থেকেছি
আমার হায়াত বাড়ে
অনটন কখনো বুঝি না। 

সবুজের সাথে ফুল ও ফলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করি আমি
এক ঘণ্টার এখানে নিজেকে খুঁজে পাই না, 
মাটির মায়ায় ফানা হয়ে যাই
বাকি এক ঘণ্টা যায় খাওয়ায়-নাওয়ায়
মেয়ে, আমার ওপরে বেমক্কা ঝাঁপ দিবে না আর
খামোখা খটকা পুষে মনোরোগী হতে যাও কেন?

 

তুমি নাকি পাহাড়ের সানুদেশে সংসার পাতবে মেয়ে? 
তুমি নেমে আসো পাহাড়ের পাদদেশে
যেখানে ঝরনা আছে, ফুল-ফল-পাখি আছে,
মানব বসতি আছে, সমাজ সভ্যতা আছে
ন্যায় আছে তাকে আগলে রাখতে হবে। 
অন্যায় ও অবিচার আছে-সুতীব্র চিৎকার আছে-
তাকে আরো ঝাঁঝালো করে তুলতে হবে
তোমাকে আমাকে। 

 

মেয়ে, সূর্যটা দেখবে, নিশ্চয় তুমি সূর্য দেখবে,
আমি হাত বাড়ালাম। 
কথা দাও , হাত দু'টি ধরো-
অহংকারটা না হয় এবারও তোমার-ই হয়ে থাক
তুমি যে সূর্যের তেজে উদ্দীপ্ত কবির মান ও মন
প্রেম-প্রীতি- ভালোবাসা পাবে জীবনে আজীবন।