Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রোগের বাহক হচ্ছেন না তো?

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রায় অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই নানা প্রয়োজনে খুলে গেছে অফিস–আদালত। চালু হয়েছে গণ পরিবহন, সীমিত পরিসরে হলেও আমরা সবাই কমবেশি কর্মক্ষেত্রে যাওয়া–আসা শুরু করেছি। কবে এই মহামারি শেষ হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব না। তাই যত দ্রুত সম্ভব সবার মধ্যেই নতুন এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলার একটা প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সম্ভবত এই প্রয়োজনের তাগিদেই এই ‘নিউ নরমাল’ বা নতুন স্বাভাবিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই চলছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সতর্কতার সাথে সংক্রমণ প্রতিরোধের সব ব্যবস্থা নিয়ে ঘরে-বাইরে সর্বত্র চলছে প্রায় সবরকমের কাজকর্ম। তবে বলা বাহুল্য, এ ব্যাপারে প্রয়োজন কিছু পূর্ব প্রস্তুতি। 

সবসময় ঘরের বাইরে বের হবার আগে চেষ্টা করবেন ঘর থেকে খেয়ে বের হতে। আর যদি  দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে থাকতে হয়, তাহলে বাইরে খাবার যেন খেতে না হয় সে লক্ষ্যে ঘরের তৈরি খাবার সাথে রাখবেন। একটা বা দুটো ভালো সার্জিকাল মাস্ক আপনার অবশ্যই সবসময় আপনার সাথেই রাখবেন। ভ্যানিটি ব্যাগ, মানিব্যাগ, ঝোলা এসব পরিহার করবেন। একটা ছোট হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন।সম্ভব হলে গণ পরিবহন যেমন বাস, হিউম্যান হলার ইত্যাদি এড়িয়ে চলাই ভালো। সবচেয়ে ভালো হাঁটা। নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকলে ভালো। অফিসের গাড়ি একসঙ্গে অনেকে ব্যবহার করে, তাই দূরত্ব বজায় রেখে বসতে হবে।

 

 
সচেতনতা

লিফট যতটা সম্ভব পরিহার করাই ভালো। বিশেষ করে যদি অফিস সময়ে ভিড় থাকে। আর যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে নিয়ম হলো পরস্পরের দিকে পিঠ দিয়ে লিফটের দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো, লিফটের বাটন কনুই দিয়ে টেপার চেষ্টা করা। অফিসের দরজার হাতল স্পর্শ না করে ঢুকবেন। 

করোনার সময় কার্ড পাঞ্চ করা পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে অফিসগুলোকে। সব অফিসের প্রবেশ মুখে বা নিচে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাইরে থেকে যিনি আসবেন, তিনি অবশ্যই হাত ধুয়ে ঢুকবেন। নিজের ফ্লোরে বা অফিসে প্রবেশ করার পরও প্রথমেই ওয়াশরুমে গিয়ে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। তারপর ডেস্কে এসে প্রথমে ডেস্কের ওপরের তল, কম্পিউটারের কি-বোর্ড, মাউস, টেলিফোন ইত্যাদি স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।

এই সময়ে অফিসে একজন আরেকজনের ডেস্কে যাওয়া, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গল্প করা নিষেধ। তিন ফুট দূর থেকেই কথা সারবেন বা প্রয়োজনে ডেস্কের ফোন ব্যবহার করবেন। কোনো সভা করতে হলে অনলাইনই এখন সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। মিটিং উপলক্ষে অনেক মানুষ একত্রিত হওয়া যাবে না। এমন হতে পারে কেউ কেউ অফিস থেকে আর কেউ কেউ বাড়ি থেকে সভায় যোগদান করলেন। কাজের সময় মাস্ক কখনোই খুলবেন না, নাকের নিচে গলায় নামিয়ে রাখা যাবে না। একবার মাস্ক খুলে ফেললে তা ফেলে দিয়ে আরেকটা পরতে হবে, তাই দরকার হলে কয়েকটি মাস্ক রাখুন। মাস্ক ভিজে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেলে ফেলে দিতে হবে। মাস্ক পাল্টানোর সময় পেছনের ফিতায় হাত দিয়ে খুলবেন আর যথাযথ জায়গায় বর্জ্য ফেলবেন। চেষ্টা করবেন অফিসের কাপে, প্লেটে চা-নাশতা ইত্যাদি না খেতে।

দুপুরে খাওয়ার সময় ভালো করে হাত ধুয়ে নিজের আনা বক্স থেকে নিজের চামচ ব্যবহার করে দ্রুত খেয়ে নিন আর খাওয়ার পর হাত ধুয়ে আবার নতুন মাস্ক পরে নিন। যে মাস্কটি খুলে টেবিলে বা ডেস্কে রেখেছেন বা গলায় ঝুলিয়েছেন, তা দূষিত এবং আবার নাকে দেওয়া যাবে না। এর ফাকেঁও সারা দিন বেশ কয়েকবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। ওয়াশরুম দূরে হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করুন। গ্লাভস পরা হাতেও স্যানিটাইজার দেওয়া যায়। বিশেষ করে কোনো ফাইল বা কাগজপত্র স্পর্শ করার পর সঙ্গে সঙ্গে হাত জীবাণুমুক্ত করবেন।

 

 

বাড়ি ফিরে করনীয় 

বাড়ি বাথরুমে ঢুকে আগে হাত কনুই অবধি সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর গোসল করে নিন। ব্যবহৃত জামাকাপড়, মোজা, খাবারের ব্যাগ ইত্যাদি সাবান–পানিতে চুবিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বাড়ি ফিরে নিজে ও নিজের জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত না করা পর্যন্ত আপনজনদের কাছে যাবেন না, কোনো চেয়ার বা বিছানায় বসবেন না।