Skip to content

১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় পুষ্টির ভূমিকা!

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে  আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু জানেন কী মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নেও রয়েছে খাদ্য ও পুষ্টির ভূমিকা?

শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলাের মতোই মস্তিষ্কের ও প্রয়োজন বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, যার মধ্যে রয়েছে ফ্যাটি এসিড, শর্করা, আমিষ,ফলিক এসিড, স্নেহ জাতীয় খাদ্য, ভিটামিন প্রভৃতি ।সঠিক খাদ্য উপাদান সচল রাখে মস্তিষ্ককে তাই বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের ঘাটতি প্রভাব ফেলে মানসিক সুস্থতায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিক অবসাদ ও সমস্যা গুলাে যেনো আরো প্রকট হয়ে চলেছে, তাই চলুন জেনে নিই বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানগুলো আমাদের মানসিক সুস্থতায় কিভাবে ভূমিকা রাখেঃ

 

 

কার্বােহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য

মস্তিষ্ক সচল ও কার্যকর রাখতে প্রয়োজন শক্তির। মানবদেহে মোট প্রয়োজনীয় শক্তির ২০% ই কাজে লাগায় মস্তিষ্ক।  আর এ শক্তির জন্য প্রয়োজন গ্লুকোজ যা আমরা পাই শর্করা জাতীয় খাদ্য থেকে। 

শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাবে দুর্বলতা, ক্লান্তি সহ সৃষ্টি হতে পারে নানা সমস্যা। বিভিন্ন দানাশস্য যেমন লাল চাল,লাল আটা ও ফলমূল,ডাল, শাকসবজি, ওটস্ এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করুন নিয়মিত।নিয়মিত ও পরিমিত গ্লুকোজ কাজ করবে জ্বালানী হিসেবে যা মস্তিষ্কের সরাসরি  প্রয়োজন হবে এবং আপনার খিটখিটে মেজাজ, বিষণ্নতা দূর হবে। 

 

আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য

মস্তিষ্কের কাজ সঠিক ভাবে পরিচালনায় শক্তির পাশাপাশি আমাদের প্রয়োজন অ্যামিনো এসিড যা আমরা পাই আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য থেকে।নিয়মিত গ্রহণ করুন মাছ,মাংস, দুধ,ডিম,ডাল,বাদাম,সয়াবিন ইত্যাদি আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য।

অনেকেই মনে করেন ফ্যাট বা স্নেহজাতীয় খাদ্যের কেবলই রয়েছে খারাপ দিক কিন্তু বাস্তবে ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড প্রভৃতি মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন চর্বিযুক্ত মাছ,বাদাম,বীজজাতীয় খাদ্য, অ্যাভোকাডো,ডিম ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য ইত্যাদি সাহায্য করে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও মস্তিষ্কে রক্তচলাচলের মাত্রা সঠিক রাখতে।সুস্বাস্থ্যের জন্য ও প্রয়োজন এ খাদ্য উপাদান গুলো।

 

ভিটামিন 

ভিটামিন জাতীয় খাদ্যের অভাব যেমন সৃষ্টি করতে পারে বিভিন্ন ভিটামিনের অভাবজনিত রােগ তেমনই এর ঘাটতির কারণে হতে পারে বিভিন্ন স্নায়ুবিক ও মানসিক ক্ষতি। 

দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত ভিটামিন বি-১, বি-৩ ও বি-১২ সমৃদ্ধ খাদ্য যা সুস্থ মন ও শরীরের জন্য একান্ত দরকার। বিশেষজ্ঞ দের মতে ভিটামিন বি এর অভাবে মানসিক চাপ, অবসাদ, ক্লান্তি, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।মাছ,মাংস,ডিম,দুধ, কম চর্বিযুক্ত দই,খাদ্যশস্য নিয়মিত গ্রহণে হবে না ভিটামিন বি এর ঘাটতি।

গবেষকদের মতে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও হতাশার ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ডি।

তাই সঠিকমাত্রায় গ্রহণ করুন সামুদ্রিক ও তৈলাক্ত মাছ, যকৃত, ডিমের কুসুম,খাদ্যশস্য,মাশরুম ইত্যাদি।

 বাড়িতে বানানো কমলার জুস থেকেও পেতে পারেন ভিটামিন ডি ও সি যা মানসিক সুস্বাস্থ্য গঠন ছাড়া ও বৃদ্ধি করবে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা।

রোজ সকালে নিয়ম করে হাঁটুন, সকালের রোদ থেকে পাবেন ভিটামিন ডি! ভালো থাকবে শরীর,ভালাে থাকবে মন।

 

খনিজ সমৃদ্ধ খাদ্য

রক্তস্বল্পতা  বা এনিমিয়া নিরাময়ে লৌহ বা আয়রন জাতীয় খাদ্যের বিকল্প নেই তবে মানসিক বিভিন্ন সমস্যা নিরাময়ে ও রয়েছে লৌহসমৃদ্ধ খাদ্যের উপকারিতা।  তাই ডাল,যকৃত,সবুজ শাকসবজি,মাছ মাংস প্রভৃতি লৌহ সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করুন।

ফোলেটের অভাবে বাড়তে পারে মানসিক অবসাদ।অতএব সবুজ শাকসবজি,শিম, লেবু জাতীয় ফল প্রভৃতি ফোলেট সমৃদ্ধ খাদ্যগুলো রাখতে পারেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়।

প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন কারণ এতে রয়েছে সেলেনিয়াম,তামা প্রভৃতি খনিজ পদার্থ যা মানসিক অসুস্থতা উপশমে সাহায্য করবে।

এছাড়াও ডার্ক চকলেট গ্রহণ বাড়াতে পারে স্মৃতিশক্তি।

মানসিক সুস্থতা না থাকলে দৈনন্দিন কোনো কাজই হয়না সঠিক ভাবে তাই হাসিখুশি থাকুন, মেনে চলুন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।

ভালাে থাকুন,ভালাে রাখুন!

 

প্রিয়াংকা দাশ

নিউট্রিশন এন্ড ফুড ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট