৮ নভেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
খাবার-দাবার

দীপাবলির মিষ্টিমুখ হোক স্বাস্থ্যকর, ঘরেই বানিয়ে নিন ৫ পদ

66476205

আলোয় ঝলমলে দীপাবলি মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিষ্টিমুখের আয়োজন। এই বিশেষ দিনে মিষ্টি ছাড়া উৎসবের আমেজ যেন কিছুটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরির কথা ভেবে অনেকেই মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা স্বাস্থ্যসচেতনদের জন্য বিষয়টি কিছুটা চিন্তার।

ছবি:সংগৃহীত

তবে মিষ্টি খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার প্রয়োজন নেই। খেজুর, বাদাম, বেসন, ওটস, ফল ও দুধের মতো উপকরণ দিয়ে ঘরেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু কিছু মিষ্টি। এসব খাবারে পরিশোধিত চিনির ব্যবহার কমানো বা বাদ দেওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক দীপাবলির জন্য সহজে তৈরি করা যায় এমন পাঁচটি মিষ্টির রেসিপি।

১. খেজুর ও বেসনের লাড্ডু

দীপাবলির মিষ্টির তালিকায় লাড্ডু বেশ জনপ্রিয়। সাধারণ লাড্ডুর পরিবর্তে খেজুর ও বেসন দিয়ে তৈরি করতে পারেন তুলনামূলক কম পরিশোধিত চিনিযুক্ত একটি বিকল্প। খেজুরের প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও বেসনের স্বাদ মিলে তৈরি হবে সুস্বাদু এই পদ।

যেভাবে তৈরি করবেন:

-একটি প্যানে সামান্য ঘি দিয়ে বেসন কম আঁচে ভালোভাবে ভেজে নিন।
-খেজুরের বিচি ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
-ভাজা বেসনের সঙ্গে খেজুরের পেস্ট ও সামান্য এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে নিন।
-মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে ছোট ছোট গোল লাড্ডু তৈরি করুন।
-স্বাদ বাড়াতে সামান্য কুচি করা বাদাম যোগ করতে পারেন।

Advertisements

২. ওটস ও বাদামের লাড্ডু

স্বাস্থ্যকর উপকরণ দিয়ে মিষ্টি তৈরি করতে চাইলে ওটস ও বাদামের লাড্ডু হতে পারে দারুণ পছন্দ। ওটসে রয়েছে খাদ্যআঁশ, আর বাদাম থেকে পাওয়া যায় প্রোটিন ও অসম্পৃক্ত চর্বি। বিকেলের নাশতা কিংবা উৎসবের মিষ্টিমুখে রাখতে পারেন এই পদ।

যেভাবে তৈরি করবেন:

-প্রথমে শুকনো প্যানে ওটস হালকা ভেজে গুঁড়া করে নিন।
-কয়েকটি খেজুর বিচি ছাড়িয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
-ওটসের গুঁড়ার সঙ্গে খেজুরের পেস্ট মিশিয়ে নিন।
-এবার কুচি করা কাঠবাদাম, চিনাবাদাম ও সামান্য এলাচ গুঁড়া যোগ করুন।
-সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে ছোট ছোট লাড্ডু বানিয়ে পরিবেশন করুন।

৩. মিষ্টি আলুর পায়েস

পায়েস ছাড়া উৎসবের খাবারের আয়োজন অনেকের কাছেই অসম্পূর্ণ। তবে বাড়তি চিনি ছাড়াও তৈরি করা যায় মিষ্টি আলুর পায়েস। মিষ্টি আলুর নিজস্ব মিষ্টি স্বাদ ও দুধের ঘনত্ব মিলে তৈরি হবে মুখরোচক একটি ডেজার্ট।

যেভাবে তৈরি করবেন:

-মিষ্টি আলু ভালোভাবে সেদ্ধ করে ছোট টুকরা করুন অথবা পেস্ট তৈরি করুন।
-একটি পাত্রে দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা ঘন করে নিন।
-এবার সেদ্ধ মিষ্টি আলু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
-কম আঁচে কিছুক্ষণ রান্না করুন এবং মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন।
-সবশেষে এলাচ গুঁড়া ও কুচি করা বাদাম ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
-গরম কিংবা ঠান্ডা—দুইভাবেই পরিবেশন করতে পারেন।

৪. আপেল ও দারুচিনির মিষ্টি

ফল দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেতে চাইলে আপেল ও দারুচিনির এই সহজ রেসিপিটি বেছে নিতে পারেন। আপেলের প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও দারুচিনির সুগন্ধ খাবারটিকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়। বাড়তি চিনির প্রয়োজনও হবে না।

যেভাবে তৈরি করবেন:

-আপেল ধুয়ে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন।
-একটি প্যানে সামান্য পানি দিয়ে আপেলের টুকরাগুলো নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
-এবার দারুচিনি গুঁড়া ও কুচি করা বাদাম মিশিয়ে দিন।
-প্রয়োজন মনে করলে সামান্য খেজুরের পেস্ট যোগ করতে পারেন।
-মিশ্রণটি কিছুক্ষণ রান্না করে নামিয়ে নিন।
-ঠান্ডা করে অথবা হালকা গরম অবস্থায় পরিবেশন করুন।

৫. বাদাম ও তিলের মিষ্টি বল

বাদাম ও তিলের সমন্বয়ে তৈরি এই মিষ্টি বল হতে পারে দীপাবলির খাবারের তালিকায় ভিন্ন স্বাদের সংযোজন। পরিশোধিত চিনি ছাড়াই খেজুরের পেস্ট ব্যবহার করে এতে মিষ্টি স্বাদ আনা যায়।

যেভাবে তৈরি করবেন:

-তিল ও চিনাবাদাম আলাদা করে শুকনো প্যানে হালকা ভেজে নিন।
-চিনাবাদাম গুঁড়া করে নিন।
-এবার বাদামের গুঁড়ার সঙ্গে খেজুরের পেস্ট মিশিয়ে নিন।
-এতে ভাজা তিল ও সামান্য এলাচ গুঁড়া যোগ করুন।
-সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে ছোট ছোট গোল বল তৈরি করুন।
-পরিবেশনের আগে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।

ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি খাওয়ার আগে সতর্কতা

চিনি ছাড়া তৈরি হয়েছে বলেই কোনো মিষ্টি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। খেজুর ও ফলেও প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। অন্যদিকে বাদাম ও তিলে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই এসব খাবারও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা, ওষুধ ও নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ঠিক করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

দীপাবলির আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে তৈরি মিষ্টির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, নিজের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণ এবং চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর উপকরণে তৈরি মিষ্টিও অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। পরিমিত খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস বজায় রেখেই উপভোগ করুন আলোর উৎসবের মিষ্টিমুখ।

Advertisements