দুনিয়ার সব মায়া ছেড়ে পরকালে মুমিনের সঙ্গী হবে যা

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। অর্থ-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি, খ্যাতি কিংবা প্রিয়জন—কোনোটিই মৃত্যুর পর মানুষের সঙ্গে যাবে না। একদিন সবকিছু পেছনে ফেলে একাই পাড়ি দিতে হবে পরকালের পথে। সেই অনন্তযাত্রায় মানুষের প্রকৃত সঙ্গী হবে তার ইমান ও আমল।
মানুষের জীবনে কত আয়োজন! কেউ সম্পদ অর্জনে ব্যস্ত, কেউ গড়ে তোলেন স্বপ্নের বাড়ি, আবার কেউ পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কাটিয়ে দেন জীবনের বড় অংশ। অথচ এসব ব্যস্ততার মাঝেই ভুলে যাই জীবনের চিরন্তন সত্য—মৃত্যু।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
মৃত্যুর পর স্বজনেরা কান্না করবেন, প্রিয়জনেরা শেষ বিদায় জানাবেন। এরপর সবাই ফিরে যাবেন নিজেদের জীবনে। পড়ে থাকবে মানুষের অর্জিত সম্পদ, সাজানো সংসার ও অসংখ্য স্মৃতি। কিন্তু তার সঙ্গে থেকে যাবে শুধু জীবনের আমল।
পরিবার ও সম্পদ ফিরে যাবে, থাকবে আমল
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মৃত্যুর পর মানুষের সঙ্গী সম্পর্কে বলেছেন, ‘মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে তিনটি জিনিস। দুটি ফিরে আসে, আর একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। তার পরিবার, সম্পদ ও আমল তার অনুসরণ করে। অতঃপর তার পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে, আর তার আমল তার সঙ্গে থেকে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫১৪)
এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দুনিয়ার সম্পদ ও সম্পর্ক চিরস্থায়ী নয়। তাই পরকালের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নেক আমলকে।
ছোট আমলও হতে পারে মূল্যবান
মানুষের করা কোনো ভালো বা মন্দ কাজই আল্লাহর কাছে অগোচর থাকে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তা-ও দেখতে পাবে।’ (সুরা জিলজাল, আয়াত: ৭-৮)
তাই নামাজ, রোজা ও দান-সদকার পাশাপাশি সততা, আমানতদারি, মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং অন্যের অধিকার রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাকওয়াই শ্রেষ্ঠ পাথেয়
আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার নাম তাকওয়া। পরকালের জন্য এটিই সবচেয়ে উত্তম প্রস্তুতি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৭)
মৃত্যুর পরও যে তিন আমলের সুফল থাকে
মহানবী (সা.) বলেছেন, মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের সুফল অব্যাহত থাকে—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)
অর্থাৎ মানুষের কল্যাণে স্থায়ী অবদান রাখা, উপকারী জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং সন্তানকে সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও পরকালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দুনিয়ার জীবন একদিন শেষ হবেই। তাই সম্পদ ও পার্থিব অর্জনের পাশাপাশি আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। কারণ মৃত্যুর পর সঙ্গে থাকবে না কোনো পার্থিব পরিচয়; থাকবে শুধু নিজের ইমান, তাকওয়া ও নেক আমল।



