৫ নভেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২০ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

পায়ের কড়া সারাতে কর্ন ক্যাপ ব্যবহার করছেন? বিপদ বাড়ছে না তো?

IMG_7446

পায়ের তলায় শক্ত, গোল ও যন্ত্রণাদায়ক কড়া হলে হাঁটাচলায় অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে জুতো পরলে কিংবা দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ব্যবহার করেন কর্ন ক্যাপ বা কর্ন প্লাস্টার। তবে উপকারের আশায় ব্যবহৃত এই প্লাস্টারই কারও কারও জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি তৈরি করতে পারে গুরুতর ক্ষত।

চিকিৎসকদের মতে, পায়ের কড়া কোনো সংক্রমণ নয়। জুতোর ঘষা কিংবা পায়ের নির্দিষ্ট কোনো অংশে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চাপ পড়লে শরীর নিজেকে রক্ষা করতে ওই জায়গার চামড়া শক্ত ও মোটা করে ফেলে। এভাবেই তৈরি হয় কড়া। তবে শুধু পায়ের অযত্ন নয়, ভুল মাপের জুতো ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাসও এর কারণ হতে পারে।

কড়া আর আঁচিল কি এক?

অনেকেই পায়ের কড়া ও আঁচিলকে একই সমস্যা মনে করেন। তবে দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কড়া সাধারণত অতিরিক্ত চাপের কারণে তৈরি হয়। এর মাঝখানে শক্ত ও গোল অংশ থাকে এবং চাপ দিলে ব্যথা অনুভূত হয়।

অন্যদিকে, আঁচিল ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়। এর উপরিভাগে অনেক সময় ছোট ছোট কালো দাগ দেখা যায়। তবে শুধু দেখে কড়া নাকি আঁচিল, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তাই সমস্যা বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাড়িতে কীভাবে কড়ার যত্ন নেবেন?

Advertisements

পায়ের কড়া থেকে স্বস্তি পেতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি।

  • সঠিক জুতো পরুন: আঁটোসাঁটো বা পায়ে ঘষা লাগে এমন জুতো এড়িয়ে চলুন। আরামদায়ক ও সঠিক মাপের জুতো ব্যবহার করুন।
  • নরম ইনসোল ব্যবহার করুন: জুতোর ভেতরে নরম ইনসোল কিংবা কড়ার জন্য বিশেষ প্যাড ব্যবহার করলে আক্রান্ত স্থানের ওপর চাপ কমতে পারে।
  • গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন: হালকা গরম পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে শক্ত চামড়া নরম হয়। এরপর ঝামা পাথর দিয়ে আলতোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
  • ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করবেন না: শক্ত চামড়া নিজে কেটে ফেলার চেষ্টা করবেন না। এতে কেটে গিয়ে সংক্রমণ ও ক্ষত তৈরি হতে পারে।

কর্ন ক্যাপ ব্যবহারে কেন সতর্কতা?

পায়ের কড়া দূর করতে অনেকেই স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত কর্ন ক্যাপ বা কর্ন প্লাস্টার ব্যবহার করেন। এই উপাদান শক্ত চামড়া নরম করে তুলে ফেলতে সাহায্য করে। তবে সবার জন্য এটি নিরাপদ নয়।

বিশেষ করে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, যাদের পায়ে রক্ত চলাচলে সমস্যা রয়েছে কিংবা পায়ের অনুভূতি কমে গেছে, তাদের এ ধরনের প্লাস্টার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ স্যালিসাইলিক অ্যাসিড শুধু কড়ার অংশ নয়, আশপাশের সুস্থ ত্বকেও ক্ষতি করতে পারে। এতে ক্ষত তৈরি হয়ে গুরুতর ঘা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

কড়ার কারণে বারবার ব্যথা হলে, হাঁটাচলায় সমস্যা তৈরি হলে কিংবা আক্রান্ত স্থানের চারপাশ লাল হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পুঁজ বের হওয়া বা নতুন ক্ষত তৈরি হলেও অবহেলা করা উচিত নয়।

বিশেষ করে ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পায়ে সামান্য ক্ষত দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

পায়ের কড়া দেখতে ছোট সমস্যা মনে হলেও অবহেলা করলে তা বড় আকার নিতে পারে। তাই নিজে কাটাছেঁড়া বা রাসায়নিকযুক্ত প্লাস্টার ব্যবহারের পরিবর্তে সঠিক জুতো পরা, নিয়মিত পায়ের যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Advertisements