৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

খোসাসহ নাকি খোসা ছাড়িয়ে, কোনভাবে শসা খাওয়া বেশি উপকারী?

1754817134-2516eab21ffff810789e165a99e8edb9

শসা খাওয়ার সময় অনেকেই এর খোসা ছাড়িয়ে নেন। আবার কেউ কেউ খোসাসহ শসা খেতেই পছন্দ করেন। তবে পুষ্টিগুণের দিক থেকে কোনটি বেশি উপকারী? পুষ্টিবিদদের মতে, শসার খোসা ফেলে না দিয়ে খাওয়াই ভালো। কারণ, শসার খোসায় রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, যা স্বাস্থ্যের নানা উপকারে আসে।

সংগৃহীত

শসার খোসায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য আঁশ বা ফাইবার, ভিটামিন কে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে খাদ্য আঁশ হজম প্রক্রিয়া ভালো রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে, ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। ফলে গরমের দিনে শসা হতে পারে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখার মতো একটি উপকারী সবজি।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের খাদ্যতালিকায় শসা রাখতে পারেন। এতে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং পানির পরিমাণ বেশি। পাশাপাশি খোসায় থাকা খাদ্য আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমতে পারে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

তবে শুধু শসার খোসা খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও প্রয়োজন।

Advertisements

শসার খোসায় থাকতে পারে কীটনাশক ও মোমের প্রলেপ

শসার খোসা পুষ্টিকর হলেও বাজার থেকে কেনা শসা খাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অনেক সময় শসার গায়ে ময়লা, জীবাণু, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ কিংবা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত মোমের প্রলেপ থাকতে পারে। এসব উপাদান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করে খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে শসা দেখতে চকচকে হলেই সেটি নিরাপদ বা রাসায়নিকমুক্ত—এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবার সব শসায় মোমের প্রলেপ বা অতিরিক্ত কীটনাশক থাকে, এমনটিও নয়।

শসা খাওয়ার আগে যেভাবে পরিষ্কার করবেন

শসার খোসার পুষ্টিগুণ পেতে চাইলে খাওয়ার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করতে পারেন—

১. প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহমান পানির নিচে শসা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

২. হাত দিয়ে বা পরিষ্কার সবজির ব্রাশ দিয়ে শসার বাইরের অংশ ঘষে পরিষ্কার করুন।

৩. শসার গায়ে মাটি বা দৃশ্যমান ময়লা থাকলে তা ভালোভাবে সরিয়ে ফেলুন।

৪. পরিষ্কার করার পর শুকনো বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

৫. শসার গায়ে মোমের প্রলেপ থাকলে শুধু পানি দিয়ে তা পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

অনেকে শসা পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিনিগার বা বেকিং সোডা মিশিয়ে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। তবে এসব উপাদান ব্যবহার করলেই কীটনাশক বা মোম পুরোপুরি দূর হবে, এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। তাই খাদ্য পরিষ্কারের জন্য প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধোয়া এবং ঘষে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজ পদ্ধতি। শসা পরিষ্কারের জন্য সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।

খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া কখন ভালো?

শসা ভালোভাবে পরিষ্কার করার সুযোগ না থাকলে কিংবা এর গায়ে ময়লা বা মোমের প্রলেপ নিয়ে সন্দেহ থাকলে খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া যাদের শসার খোসা খেলে হজমে অস্বস্তি হয়, তাঁরাও খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন।

Advertisements