মৌসুম বদলালেই হাঁচি-সর্দি, কারণ কী?

নাক দিয়ে পানি পড়া, বারবার হাঁচি, চোখ দিয়ে পানি পড়া কিংবা নাক-গলায় চুলকানি—এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই একে সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে ওষুধ খেতে শুরু করেন। তবে সব সময় এসব উপসর্গের কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো হতে পারে অ্যালার্জির লক্ষণ। তাই সর্দি ও অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি।
দুটি সমস্যার লক্ষণ কাছাকাছি হলেও কারণ, স্থায়িত্ব এবং আনুষঙ্গিক উপসর্গের দিক থেকে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য। এসব বিষয় বুঝতে পারলে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এড়ানোর পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা নেওয়াও সহজ হয়।
সর্দি ও অ্যালার্জির কারণ আলাদা
সাধারণ সর্দি মূলত ঊর্ধ্ব শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। ২০০টিরও বেশি ধরনের ভাইরাস এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের প্রথম দুই থেকে তিন দিন উপসর্গ বেশি তীব্র থাকে। এরপর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সর্দি সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়।
অন্যদিকে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধুলাবালি, পরাগরেণু, ডাস্ট মাইট, ছত্রাক কিংবা পোষা প্রাণীর মৃত কোষ ও লোমের মতো সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন উপাদানের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে অ্যালার্জি হয়। একে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসও বলা হয়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শে যতক্ষণ থাকা হয়, ততক্ষণ উপসর্গ চলতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি নির্দিষ্ট মৌসুমে দেখা দেয়, আবার কারও ক্ষেত্রে সারা বছর থাকতে পারে।
বারবার হাঁচি ও চুলকানি কি অ্যালার্জির ইঙ্গিত?
সর্দি ও অ্যালার্জি—দুই ক্ষেত্রেই হাঁচি হতে পারে। তবে অ্যালার্জির ক্ষেত্রে সাধারণত একটানা বা পরপর অনেকবার হাঁচি আসে। বিশেষ করে ধুলাবালি, পরাগরেণু কিংবা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে গেলে এ সমস্যা বাড়তে পারে।
নাক, গলা ও চোখে চুলকানিও অ্যালার্জির অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। বিপরীতে, সাধারণ সর্দির ক্ষেত্রে গলাব্যথা, কাশি ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ বেশি দেখা যায়।
নাকের পানি দেখেও কি পার্থক্য বোঝা যায়?
নাক দিয়ে কয়েক দিন ধরে স্বচ্ছ ও পানির মতো তরল পড়তে থাকলে, বিশেষ করে এর সঙ্গে হাঁচি ও চুলকানি থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকতে পারে। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শ অব্যাহত থাকলে এই সমস্যা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
তবে সাধারণ সর্দির কারণেও নাক দিয়ে পানি পড়ে। সংক্রমণের তীব্রতা বাড়লে নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং শ্লেষ্মার ঘনত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই শুধু নাকের নিঃসরণ দেখে নিশ্চিতভাবে অ্যালার্জি শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
জ্বর ও শরীর ব্যথা কোন সমস্যার লক্ষণ?
অ্যালার্জির কারণে সাধারণত জ্বর বা শরীর ব্যথা হয় না। এসব উপসর্গ ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। তবে নাক চুলকানো ও বারবার হাঁচির পাশাপাশি চোখ লাল হওয়া কিংবা চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা থাকলে তা অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।
লক্ষণ কখন দেখা দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘর পরিষ্কারের সময়, ধুলাবালিযুক্ত স্থানে গেলে, পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে এলে কিংবা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে একই সমস্যা বারবার দেখা দিলে পরিবেশগত অ্যালার্জির আশঙ্কা থাকে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বারবার হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা কিংবা চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যাকে সব সময় সাধারণ সর্দি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এসব উপসর্গ ঘুম ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে দুই সপ্তাহেও উপসর্গের উন্নতি না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর দেখা দিলেও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
লক্ষণ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজন হলে অ্যালার্জি পরীক্ষা বা অন্যান্য মূল্যায়নের পরামর্শ দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, শুধু উপসর্গ দেখে অ্যালার্জি নিশ্চিত করা যায় না। সাধারণ সর্দি ভাইরাসের কারণে হওয়ায় এতে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন নেই। কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়।



