৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

বছরে মাত্র দুই ডোজ ইঞ্জেকশনেই কমবে এইচআইভির ঝুঁকি, অনুমোদন পেল নতুন ওষুধ

befunky-collage-10-1785339765

প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন ছাড়াই এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের জেনেরিক ইঞ্জেকশন এইচআইভি প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএর প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। ছয় মাস পরপর একটি করে ডোজ নিতে হবে। অর্থাৎ, বছরে মাত্র দুইবার ইঞ্জেকশন গ্রহণের মাধ্যমেই এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হবে।

লেনাক্যাপাভির মূলত উদ্ভাবন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক লাইসেন্সিং চুক্তি করে ডক্টর রেড্ডিজ। এই চুক্তির আওতায় ভারতসহ ১২০টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ওষুধটি তৈরি ও সরবরাহের সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি।

গত ২ নভেম্বর ডক্টর রেড্ডিজের তৈরি লেনাক্যাপাভিরের জেনেরিক সংস্করণ এফডিএর ‘টেন্টেটিভ অ্যাপ্রুভাল’ বা প্রাথমিক অনুমোদন পায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ওষুধটির সহজলভ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্ট-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সেখানে সরাসরি ওষুধটি বাজারজাত করার অনুমতি পাওয়া যায়নি।

কীভাবে কাজ করে লেনাক্যাপাভির?

লেনাক্যাপাভির এইচআইভি-১ ভাইরাসের ক্যাপসিড প্রোটিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ভাইরাসের জীবনচক্রের একাধিক পর্যায়ে বাধা সৃষ্টি করে এটি। ফলে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

এইচআইভি প্রতিরোধে ওষুধটির ব্যবহারকে বলা হয় প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা প্রেপ (PrEP)। অর্থাৎ, যাদের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের সংক্রমিত হওয়ার আগেই সুরক্ষা দিতে এটি ব্যবহার করা হয়।

Advertisements

তবে লেনাক্যাপাভির এইচআইভি নিরাময়ের ওষুধ নয়। যাদের শরীরে ইতিমধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ রয়েছে, তাদের চিকিৎসায় প্রতিরোধের জন্য নির্ধারিত ডোজ ব্যবহার করা যাবে না। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় লেনাক্যাপাভিরের আলাদা ব্যবহার রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে অন্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সঙ্গে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হয়।

কারা নিতে পারবেন এই ইঞ্জেকশন?

এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক এবং নির্দিষ্ট ওজনের বেশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য ওষুধটি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ইঞ্জেকশন নেওয়ার আগে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এইচআইভি সংক্রমিত নন। পরবর্তী প্রতিটি ডোজ নেওয়ার আগেও পরীক্ষা করা জরুরি।

কারণ, অজান্তে শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ থাকা অবস্থায় ওষুধটি ব্যবহার করলে ভাইরাসের ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়া এই ইঞ্জেকশন নেওয়া উচিত নয়।

এ ছাড়া লেনাক্যাপাভির অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না। ফলে এইচআইভি প্রতিরোধে ওষুধটি ব্যবহার করলেও অন্যান্য যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ।

কবে পাওয়া যাবে ওষুধটি?

ডক্টর রেড্ডিজের জেনেরিক ওষুধের প্রথম চালান ২০২৬ সালের শেষ দিকে কয়েকটি দেশে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০২৭ সালে আরও বিস্তৃত পরিসরে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

লাইসেন্সের আওতাভুক্ত ১২০টি দেশে প্রতি ব্যক্তির জন্য বছরে ৪০ মার্কিন ডলারে ওষুধটি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভারতে চূড়ান্ত বাজারজাতকরণের অনুমোদন এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে ওষুধটি কবে পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

Advertisements