৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
রূপ-সৌন্দর্য

ত্বকের বয়স বাড়বেই, তবে তারুণ্য ধরে রাখবেন কীভাবে

Closeup of cheerful beautiful adult lady applying eye cream

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা, দাগ ও স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে সঠিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ত্বকের বয়সের ছাপ অনেকটাই ধীর করা সম্ভব। এ জন্য দামি প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীনের মতে, ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অভ্যাস হলো প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার, রাতে নিয়মিত রেটিনয়েড ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম ত্বক সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এ সময় সানস্ক্রিনের পাশাপাশি ভিটামিন সি ও রেটিনয়েডের মতো উপাদান ত্বকচর্চায় যুক্ত করা যেতে পারে। ৪০ বছরের পর পেপটাইড ও ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। আর ৫০ বছরের পর ত্বকের শুষ্কতা নিয়ন্ত্রণ, আর্দ্রতা ধরে রাখা ও ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা ঠিক রাখার দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে রেটিনয়েড বেশ কার্যকর। এটি কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং বলিরেখা কমাতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন সি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। নিয়াসিনামাইড ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করে এবং দাগ ও প্রদাহ কমায়। পেপটাইড কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, আর হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত অ্যাকটিভ উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়। রেটিনল, এএইচএ, বিএইচএ ও ভিটামিন সি একসঙ্গে ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে জ্বালাপোড়া, লালভাব, শুষ্কতা ও ব্রণের সমস্যা। নতুনদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে দুই থেকে তিন রাত রেটিনল বা রেটিনাল ব্যবহার দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব উপাদান রাতে ব্যবহার করতে হবে এবং দিনে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ত্বকের যত্নে হালকা ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও জেলভিত্তিক প্রসাধনী ব্যবহার উপযোগী। সকালে ভিটামিন সি সিরাম ও ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এসপিএফ ৩০ অধিকাংশ মানুষের জন্য যথেষ্ট হলেও দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে এসপিএফ ৫০ বেছে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি ইউভিএ সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisements

ত্বকের সুস্থতার সঙ্গে জীবনযাপনেরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত কম ঘুম কোলাজেন উৎপাদনে বাধা দিতে পারে। অতিরিক্ত চিনি কোলাজেন ও ইলাস্টিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ত্বককে শক্ত ও ভঙ্গুর করে তোলে। আবার দ্রুত ওজন কমানো কিংবা বারবার ওজন বাড়া-কমার কারণে মুখের চর্বি কমে গিয়ে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হতে পারে।

অ্যান্টি-এজিংয়ের নামে বোটক্স, ফিলার, লেজার বা মাইক্রোনিডলিং করানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব চিকিৎসার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভিন্ন। প্রয়োজন ছাড়া অল্প বয়সে নিয়মিত প্রিভেন্টিভ বোটক্স নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

এ ছাড়া লেবু, বেকিং সোডা ও টুথপেস্টের মতো ঘরোয়া উপাদান ত্বকে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সীমিত বাজেটে ত্বকের যত্ন নিতে চাইলে প্রথমেই ভালো মানের সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার কেনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ বয়স বাড়া ঠেকানো না গেলেও সঠিক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।

Advertisements