৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বিজ্ঞান

৭৪ বছরেও যমজ সন্তানের মা, কতটা নিরাপদ মাতৃত্ব?

IMG_7415

ভারতের এররামাত্তি মাঙ্গাম্মা ২০১৯ সালে ৭৪ বছর বয়সে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতিতে মা হওয়া মাঙ্গাম্মাকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়া নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর সাফল্যের পাশাপাশি বেশি বয়সে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মাঙ্গাম্মা অন্য এক নারীর দান করা ডিম্বাণু ব্যবহার করে আইভিএফ পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করেছিলেন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। তাঁর ঘটনা প্রমাণ করে, মেনোপজের পরও আধুনিক চিকিৎসার সহায়তায় গর্ভধারণ সম্ভব। তবে এমন মাতৃত্ব মায়ের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

মেনোপজের পরও কীভাবে সম্ভব গর্ভধারণ?

মেনোপজের পর নারীর ডিম্বাশয় থেকে নিয়মিত ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অত্যন্ত কমে যায়। তবে আইভিএফ পদ্ধতিতে অন্য নারীর দান করা ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলনে শরীরের বাইরে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর হরমোনের চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ুকে ভ্রূণ ধারণের উপযোগী করে সেই ভ্রূণ স্থাপন করা হয়।

এভাবে নিজের ডিম্বাণু কার্যকর না থাকলেও একজন নারী গর্ভধারণ করতে পারেন। তবে এটি স্বাভাবিক প্রজননপ্রক্রিয়া নয়; সম্পূর্ণ চিকিৎসানির্ভর একটি পদ্ধতি।

বেশি বয়সে মা হওয়ার আরও নজির

Advertisements

মাঙ্গাম্মার আগে ভারতের দলজিন্দর কৌর ২০১৬ সালে ৭২ বছর বয়সে সন্তানের জন্ম দেন। স্পেনের মারিয়া দেল কারমেন বুসাদা দে লারা ২০০৬ সালে ৬৬ বছর বয়সে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ ছেলেসন্তানের মা হন। এ ছাড়া ব্রিটিশ ক্রাউন ডিপেনডেন্সি গার্নসির ডন ব্রুক ১৯৯৭ সালে ৫৯ বছর বয়সে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

তবে এ ধরনের রেকর্ডের ক্ষেত্রে মায়েদের প্রকৃত বয়স যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য নথি থাকা জরুরি। এ কারণে সবচেয়ে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার রেকর্ড নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বেশি বয়সে গর্ভধারণে কী কী ঝুঁকি?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে গর্ভধারণকে অ্যাডভান্সড ম্যাটারনাল এজ বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং মায়ের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বেশি বয়সে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে মায়ের স্বাস্থ্য ও শিশুর বিকাশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

শিশুর ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু ঝুঁকি। সময়ের আগে জন্ম, কম ওজন নিয়ে জন্মানো এবং মৃত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের কম ওজনের শিশু জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

নিজের ডিম্বাণু ব্যবহার করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে শিশুর ক্রোমোজোমজনিত অস্বাভাবিকতার ঝুঁকিও বাড়ে। তবে দান করা ডিম্বাণু ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি মূলত ডিম্বাণুদাতা নারীর বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে।

এ ছাড়া বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার হারও বেশি। মাঙ্গাম্মার যমজ সন্তানের জন্মও হয়েছিল সিজারিয়ানের মাধ্যমে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মাতৃত্বের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও শুধু গর্ভধারণ সম্ভব হওয়াই নিরাপদ মাতৃত্বের নিশ্চয়তা নয়। বিশেষ করে বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে মায়ের শারীরিক সক্ষমতা, সম্ভাব্য জটিলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Advertisements