৪ নভেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

ডিসেম্বর থেকে কার্যকর পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি, বাড়তি বেতন জানুয়ারিতে

monjury-board-20261104143747

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। ফলে ডিসেম্বর মাসের বেতন জানুয়ারিতে পরিশোধের সময় নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি অর্থ পাবেন শ্রমিকরা। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মতি জানিয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সভা শুরু হয়।

সভা শেষে বাবুল আখতার বলেন, বৈঠকে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিও নতুন মজুরি ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। সে অনুযায়ী জানুয়ারিতে ডিসেম্বর মাসের বেতন দেওয়ার সময় শ্রমিকরা নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন পাবেন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ড ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখে আন্দোলন করলেই কোনো একজন মালিকের পক্ষে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

মজুরির দাবিতে বিভিন্ন প্রস্তাব শ্রমিক সংগঠনগুলোর

নতুন মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে বাবুল আখতার বলেন, কোনো কোনো সংগঠন ৩০ হাজার টাকা, কেউ ২৭ হাজার টাকা আবার কেউ ডলারের হিসাবে মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।

Advertisements

তবে সব শ্রমিক ফেডারেশন একসঙ্গে বসে একটি সমন্বিত দাবি তৈরির চেষ্টা করবে। পরবর্তী সভায় সেই প্রস্তাব মজুরি বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্যের কাছেও শ্রমিকদের জন্য একটি যৌক্তিক মজুরির প্রস্তাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ সদস্যের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বোর্ড একটি সুপারিশ তৈরি করবে। পরে সেই সুপারিশ শ্রম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার তা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করবে।

মজুরি ছাড়াও শ্রমিকদের নানা সমস্যা

শুধু মজুরি নয়, পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আরও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাবুল আখতার। এর মধ্যে শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বাধা, ছুটি না পাওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনা ও অভিযোগের বিষয় রয়েছে।

এসব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে বলে জানান তিনি।

আন্দোলনে সহিংসতা এড়ানোর আহ্বান

চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শ্রমিকপক্ষের এই প্রতিনিধি। তিনি বলেন, আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ বা রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। শ্রমিকদের এ ধরনের কোনো ইন্ধনের শিকার না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাবুল আখতার বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ মূলত এক জায়গায়। শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে হবে, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা সাধারণত সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হন না। তবে তাদের ওপর হামলা, নির্যাতন কিংবা মিথ্যা মামলা দেওয়া হলে ক্ষোভ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এ সময় শ্রমিকনেতা ও সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার না করা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নির্যাতন না করা এবং ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ডিসেম্বরের মধ্যেই মজুরি নির্ধারণে আশাবাদী মালিকপক্ষ

সভা শেষে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবিএম সামছুদ্দিনও নতুন মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে দুই পক্ষের ঐকমত্যের কথা জানান।

তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন। ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা যেন ডিসেম্বর মাসের বেতন জানুয়ারিতে পাওয়ার সময় নতুন মজুরি অনুযায়ী বাড়তি অর্থ পান, সে বিষয়ে মালিকপক্ষের কোনো দ্বিধা নেই। এ বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।

চলমান শ্রমিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়েই মজুরি বোর্ড কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় নিরপেক্ষ সদস্য ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements