৫ নভেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২০ কার্তিক ১৪৩৩
নারী

মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়া ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস কে?

Aber-Kawas-Jugantor-6aeb0f1be35c5

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। নির্বাচনে জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কাওয়াস লিখেছেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’

আবের কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। গত জুনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ তৈরি করেন তিনি। শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াসের বাবা-মা ফিলিস্তিনি অভিবাসী। ১৯৯০-এর দশকে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। কাওয়াস জানিয়েছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর তাঁর শৈশবের নিরাপত্তাবোধে বড় পরিবর্তন আসে। এলাকায় মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে নজরদারি ও বহিষ্কারের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। হাই স্কুলে পড়ার সময় তাঁর বাবাকে জর্ডানে বহিষ্কার করা হয়। এতে পরিবারের আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে।

২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারত্বে অর্থায়ন বন্ধের দাবিতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন কাওয়াস। নিউইয়র্কের দাতব্য সংস্থাগুলো যাতে ইসরাইলি বসতি-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি বিলের পক্ষে প্রচার চালান তিনি। সিনেটর জাবারি ব্রিসপোর্ট বিলটি উত্থাপন করেছিলেন এবং তৎকালীন অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানি এর খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেন। তবে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতায় বিলটি পাস হয়নি।

কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারের স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। প্রচারে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি যুদ্ধের অর্থায়নের বিরোধিতা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা বন্ধে ‘নিউইয়র্ক ফর অল অ্যাক্ট’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন কাওয়াস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে চলতি বছর গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Advertisements

এ ছাড়া নজরদারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের চুক্তির সমালোচনা করেন কাওয়াস। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে গত সপ্তাহে ওই চুক্তি থেকে সরে আসে পুলিশ বিভাগ।

নির্বাচনে কাওয়াসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব। গত বছর মামদানির মেয়র নির্বাচনে জয়ের পর এবার কাওয়াসের বিজয় নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisements