১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

ডেঙ্গুর পর অতিরিক্ত চুল পড়ছে? জেনে নিন করণীয়

shutterstock_2053913117_b9fa9fbc8c

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর অনেকের চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। গোসলের সময়, চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানোর পর কিংবা বালিশে আগের চেয়ে বেশি চুল দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে। তবে ডেঙ্গুর পর এমন চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় টেলোজেন এফ্লুভিয়াম।

ডেঙ্গুর মতো গুরুতর সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা, পানিশূন্যতা ও মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়ে। সাধারণত অসুস্থতার দুই থেকে চার মাস পর এ সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া মানেই স্থায়ীভাবে চুল হারানো নয়। টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের ক্ষেত্রে সাধারণত মাথার বিভিন্ন অংশ থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চুল পড়ে। শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং চুলের বৃদ্ধির চক্র ঠিক হয়ে এলে নতুন চুল গজাতে শুরু করে। তবে আগের মতো ঘন চুল ফিরে পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

চুল পড়ার সমস্যা কমাতে সেরে ওঠার সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন একধরনের প্রোটিন। তাই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা প্রয়োজন। ডাল, ছোলা, শিম, সয়াবিন, দুধ, দই, ডিম, মাছ ও মাংস হতে পারে প্রোটিনের ভালো উৎস।

পাশাপাশি শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলেও চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। এ জন্য মসুর ডাল, সবুজ শাকসবজি, শিম ও তিলের মতো খাবার খাওয়া যেতে পারে। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আয়রন শোষণ বাড়াতে সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার, যেমন পেয়ারা, লেবু, আমলকী ও টমেটো রাখা উপকারী।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক কিংবা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।

Advertisements

চুলের যত্নের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। ডেঙ্গুর পর চুল পড়লেও স্বাভাবিকভাবে শ্যাম্পু করা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো, অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং শক্ত করে চুল বাঁধা এড়িয়ে চলা ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসা সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চুল পড়া অতিরিক্ত হলে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে, মাথার নির্দিষ্ট স্থানে টাকের মতো দেখা দিলে কিংবা সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, অপর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ ও হরমোনের পরিবর্তনও চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রেই সাময়িক হলেও সঠিক কারণ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত যত্ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসতে পারে।

সূত্র: স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

Advertisements