৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বিশ্ব

বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

1-1791520168

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা ও মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ার পাশাপাশি চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে কি না, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়ায়। এতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারসের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না তার দেশ। পাশাপাশি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনা চলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমেছে।

জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে যুক্তি জোরালো হচ্ছে। এতে মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি বন্ডের মুনাফার হারও সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে এসেছে। ফলে স্বর্ণের দাম ঘুরে দাঁড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে স্বর্ণের বাজারে এখনো ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাবুরাস। তার মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা এবং বন্ডের উচ্চ মুনাফার হার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে দাম আবারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisements

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ, স্বর্ণ থেকে সরাসরি সুদ পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগ করলে আয় করার সুযোগ থাকে।

বৃহস্পতিবার সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তবে চলতি মাসের বৈঠকে নীতিনির্ধারকদের কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বসম্মতিক্রমে নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছিল। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়েছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।

Advertisements