১ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস বদলে দিতে পারে মন-মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য!

IMG-20261001-WA0034

ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে বসে খাওয়ার সুযোগ যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারও অফিস, কারও পড়াশোনা, কেউ আবার মুঠোফোনের পর্দায় ব্যস্ত। ফলে একই ঘরে থেকেও অনেক পরিবারে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই ছোট্ট অভ্যাসটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে মানসিক সুস্থতা ও মস্তিষ্কের ভালো থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একসঙ্গে খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলা, দিনের নানা ঘটনা ভাগ করে নেওয়া এবং একে অন্যের খোঁজ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে পারিবারিক যোগাযোগ বাড়ে, সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত খাবার খাওয়ার সময়টি নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও আপনজনের সঙ্গে সংযোগের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

শুধু মানসিক স্বস্তিই নয়, খাবারের অভ্যাসের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার সময় অনেকেই খাবার ধীরে খাওয়ার সুযোগ পান এবং কী খাচ্ছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকেন। অন্যদিকে একা বা তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার সময় অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়তে পারে।

মস্তিষ্কের জন্যও সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার মতো বিষয়গুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। ফলে খাবারের টেবিলটি শুধু পেট ভরানোর জায়গা না হয়ে পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে কাছাকাছি আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর হয়ে উঠতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রেও পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস নানা ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। খাবারের টেবিলে বড়দের আচরণ দেখে তারা খাবার নির্বাচন, শিষ্টাচার ও সামাজিক যোগাযোগের অনেক বিষয় শেখে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার সুযোগ তাদের অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রেও স্বস্তি দিতে পারে।

তবে একসঙ্গে খাওয়ার অর্থ শুধু একই টেবিলে বসে থাকা নয়। খাবারের সময় মুঠোফোন, টেলিভিশন বা অন্য কোনো পর্দার ব্যবহার কমিয়ে পরস্পরের দিকে মনোযোগ দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মিনিটের এই সময়টুকু যদি সত্যিকারের পারিবারিক আড্ডায় পরিণত করা যায়, তাহলে খাবারের পাশাপাশি সম্পর্কও হয়ে উঠতে পারে আরও পুষ্টিকর।

Advertisements

তাই ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন অন্তত একটি বেলা পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। দামি খাবার বা বিশেষ আয়োজনের প্রয়োজন নেই- প্রয়োজন শুধু একসঙ্গে বসার। কারণ কখনো কখনো সুস্থ মন ও ভালো সম্পর্কের শুরু হতে পারে খুব সাধারণ একটি খাবারের টেবিল থেকেই।

Advertisements