আজকের দিনটি শুধু জলদস্যুদের, আপনিও হোন একদিনের ‘পাইরেট’

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বেশ মজার ও ব্যতিক্রমী একটি দিবস—‘টক লাইক আ পাইরেট ডে’ বা জলদস্যুর মতো কথা বলার দিবস। নাম শুনেই বোঝা যায়, দিনটির উদ্দেশ্য খুব একটা গুরুগম্ভীর নয়। বরং স্বাভাবিক কথাবার্তায় জলদস্যুদের ঢং যোগ করে কিছুটা হাসি-আনন্দে সময় কাটানোই এই দিবসের মূল ভাবনা।
জলদস্যুদের সিনেমা বা গল্পে আমরা প্রায়ই শুনি—‘আহয়’, ‘ক্যাপ্টেন’, ‘স্থলভূমি দেখা যাচ্ছে’ কিংবা এমন নানা নাটকীয় সংলাপ। আজ চাইলে সেই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেই বন্ধু, পরিবার কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে মজার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।
যেভাবে পালন করতে পারেন
দিবসটি পালনের জন্য বিশেষ কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের সাধারণ কথাবার্তাকেই একটু অন্যভাবে বললেই হলো।
ধরুন, কফি কিনতে গিয়ে মজা করে বলতে পারেন, ‘ক্যাপ্টেন, এক কাপ কফি পাওয়া যাবে?’ বন্ধুর কাছে কোনো জিনিস চাইতে পারেন জলদস্যুর ভঙ্গিতে। অফিসে বস যদি নতুন কোনো দায়িত্ব দেন, পরিস্থিতি উপযোগী হলে মজার ছলে বলে দিতে পারেন, ‘জ্বি ক্যাপ্টেন!’

তবে মজার ছলে এমন কিছু করা বা বলা উচিত নয়, যাতে অন্য কেউ বিব্রত হন কিংবা নিজের জন্য কোনো ঝামেলা তৈরি হয়।
কথাবার্তার পাশাপাশি চাইলে জলদস্যুদের পোশাক, হাঁটার ধরন কিংবা অভিনয়ও অনুকরণ করা যায়। চোখে কালো পট্টি, মাথায় স্কার্ফ বা হাতে খেলনা তলোয়ারের মতো নিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলেও দিনটি উদযাপন করা যেতে পারে।
নিজের জন্য বানিয়ে নিন জলদস্যুর নাম
এই দিবসকে আরও মজার করে তুলতে নিজের জন্য একটি কাল্পনিক জলদস্যুর নাম তৈরি করতে পারেন।
নাম তৈরির একটি মজার পদ্ধতি হলো—একটি রং, একটি প্রাণীর নাম এবং একটি পেশার নাম বেছে নিয়ে সেগুলো একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া। যেমন—‘নীল + ঝিনুক + নৃত্যশিল্পী’ থেকে হতে পারে ‘নীল ঝিনুক নৃত্যশিল্পী’।
বন্ধুদের প্রত্যেকের জন্য এমন আলাদা নাম তৈরি করলে আড্ডাটাও হয়ে উঠতে পারে বেশ মজার।
যেভাবে শুরু হয়েছিল দিবসটি
‘টক লাইক আ পাইরেট ডে’র শুরু ১৯৯৫ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের জন বাওর ও মার্ক সামার্স মজা করে এই দিবসটি চালু করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচিতি পায়।
দিবসটির পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক বা গুরুতর উদ্দেশ্য নেই। দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে একটু বেরিয়ে এসে পরিচিত মানুষদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করার সুযোগ তৈরি করাই এর মূল আকর্ষণ।
১৯ সেপ্টেম্বরের ইতিহাসে আরও যা ঘটেছে
১৯ সেপ্টেম্বর শুধু জলদস্যুদের মতো কথা বলার জন্যই উল্লেখযোগ্য নয়। ইতিহাসের পাতাতেও দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেশ কিছু ঘটনা।
১৭৮৩ সালে মনগলফিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের তৈরি বেলুনে করে প্রথমবারের মতো জীবন্ত প্রাণী আকাশে ওঠে। ওই উড্ডয়নে একটি ভেড়া, একটি হাঁস ও একটি মোরগকে বহন করা হয়েছিল। কয়েক মিনিট পর প্রাণীগুলো নিরাপদে মাটিতে ফিরে আসে।
১৮৭৬ সালে মেলভিল বিসেল কার্পেট পরিষ্কারের একটি যন্ত্রের জন্য পেটেন্ট লাভ করেন। পরে তিনি স্ত্রী আনার সঙ্গে সেই যন্ত্রের ব্যবসা শুরু করেন।
১৮৯৩ সালে নিউজিল্যান্ড নারীদের ভোটাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
১৯৮২ সালে স্কট ফালম্যান অনলাইন যোগাযোগে হাসি ও বিষণ্নতা বোঝাতে মুখভঙ্গির প্রতীক ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের প্রতীকই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ইমোটিকন ও ইমোজির সংস্কৃতিতে।
১৯৯০ সালে মুক্তি পায় মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘গুডফেলাস’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেন রবার্ট ডি নিরো, রে লিওটা ও জো পেশি।
আজ যাদের জন্মদিন
১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন জর্জ ক্যাডবেরি, উইলিয়াম লিভার, লাভি অস্টিন, এলিজাবেথ স্টার্ন, মামা ক্যাস এলিয়ট ও জিমি ফ্যালন।
চকলেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ক্যাডবেরি পরিবারকে বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জর্জ ক্যাডবেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উইলিয়াম লিভারও তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলে সাবান উৎপাদনের ব্যবসা গড়ে তোলেন।
জ্যাজ সংগীতের ইতিহাসে লাভি অস্টিনের নাম উল্লেখযোগ্য। চিকিৎসাবিদ এলিজাবেথ স্টার্ন জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে গবেষণায় অবদান রাখেন। সংগীতশিল্পী মামা ক্যাস এলিয়ট ‘দ্য মামাস অ্যান্ড দ্য পাপাস’ দলের সদস্য হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। আর জিমি ফ্যালন কৌতুকশিল্পী ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
সব মিলিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বরের এই ব্যতিক্রমী দিবসটি হতে পারে দৈনন্দিন জীবনে একটু ভিন্নতা আনার উপলক্ষ। তাই আজ বন্ধু কিংবা পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি কথা জলদস্যুর ঢংয়ে বলেই না হয় তৈরি করুন হাসির নতুন উপলক্ষ।



