ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হাত-পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের অতিরিক্ত আঙুলের শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হয়। বিরল এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটিকে দেখতে প্রতিদিন বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আসাদুল ইসলাম আরিফ ও লিজা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শিশুটির জন্ম হয়। ফুলবাড়ী সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুটির প্রতিটি হাত ও পায়ে সাতটি করে আঙুল ছিল। প্রতিটি আঙুলেই ছিল নখ। তবে জন্মের দুই দিন পর বাম হাতের একটি অতিরিক্ত আঙুল নিজে থেকেই ঝরে পড়ে।
অতিরিক্ত আঙুলের পাশাপাশি শিশুটির ঠোঁটেও জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। ফলে প্রথম সন্তানের এমন শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা-মা। বিশেষ করে মেয়ের ঠোঁটের চিকিৎসার ব্যয় কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন বাবা আসাদুল ইসলাম।
ভ্যান চালিয়ে সীমিত আয়ে সংসার চালানো আসাদুল ইসলাম জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা তার পক্ষে কঠিন। তবে সন্তানের সুস্থতার জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি। শিশুটির দাদা আমজাদ হোসেন ও দাদি আয়েশা আক্তারও নাতনির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শিশুটির জন্মের সময় অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ডা. এম এ এন নূরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, হাত-পায়ের অতিরিক্ত আঙুলের কারণে আপাতত শিশুটির বড় কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। তবে ঠোঁট ও তালুর জন্মগত ত্রুটি ঠিক করতে ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস কে সাদেক আলী জানান, অতিরিক্ত আঙুল থাকার এই বৈশিষ্ট্যকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পলিড্যাক্টিলি’ বলা হয়। এটি কোনো রোগ নয়; বরং জন্মগত একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন কারণে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিশুটির শরীরে অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।



