১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিক্ষা

পছন্দের তালিকায় ভুলেই কি জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজহীন ২২০৫ জন?

77615055-ae52-48ea-9404-1bb151f36ac9_large

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেও ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়নি। তাদের মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী। ফলে ভালো ফল করেও কেন তারা কোনো কলেজে আসন পেল না এবং পরবর্তী সময়ে তাদের ভর্তি কীভাবে হবে—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার ফল, প্রাপ্ত নম্বর এবং পছন্দের কলেজগুলোর আসনসংখ্যা বিবেচনা করে ভর্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে কলেজ নির্ধারণ করা হয়।

জিপিএ-৫ পেলেও কেন কলেজ মিলল না?

ভর্তি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার পর নিজেদের পছন্দের তালিকায় মাত্র দুই-তিনটি কলেজ রেখেছেন। সাধারণত নামী ও জনপ্রিয় কলেজগুলোতে আসনসংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থী তার পছন্দের তালিকায় প্রথমে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ রাখল। তখন ওই কলেজে কতটি আসন খালি রয়েছে এবং আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার এসএসসি ফল ও নম্বরের অবস্থান কী—সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

একই কলেজে যদি আরও বেশি নম্বর পাওয়া অনেক জিপিএ-৫ শিক্ষার্থী আবেদন করে থাকে এবং আসনসংখ্যা সীমিত হয়, তাহলে তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া জিপিএ-৫ শিক্ষার্থী সেখানে আসন নাও পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় পছন্দের কলেজ বিবেচনা করা হবে। সেখানেও যদি আসন না পাওয়া যায়, তাহলে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পরবর্তী পছন্দগুলো পর্যায়ক্রমে দেখা হবে। এভাবেই শিক্ষার্থীর পছন্দক্রম ও ফলাফল বিবেচনা করে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

Advertisements

শুধু জিপিএ-৫ যথেষ্ট নয়

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া হলেই যে নির্দিষ্ট একটি কলেজে ভর্তি নিশ্চিত হবে, বিষয়টি এমন নয়। বিশেষ করে জনপ্রিয় কলেজগুলোর ক্ষেত্রে একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রাপ্ত নম্বরের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফলে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েও তার পছন্দের কলেজে আসন না পেতে পারে। অন্যদিকে একই জিপিএ-৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক বেশি নম্বরের কারণে সেই কলেজে আসন পেতে পারে।

ভর্তি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পর শুধু কয়েকটি পছন্দের কলেজকে তালিকায় রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পছন্দের কলেজগুলোর আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর তাদের জন্য তালিকার অন্য কোনো বিকল্প কলেজও অবশিষ্ট থাকেনি। এ কারণেই এবার জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে কোনো কলেজে মনোনয়ন পায়নি।

তাদের কি আর ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই?

কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর পরবর্তী ধাপে কলেজে ভর্তির সুযোগ থাকবে।

আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাদের পছন্দের কলেজে অথবা নতুন করে পছন্দক্রম দেওয়ার মাধ্যমে কলেজ বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে কোনো কলেজ না পেলেও পরবর্তী ধাপে শূন্য আসনের ভিত্তিতে তাদের জন্য নতুন করে সুযোগ তৈরি হবে।

তাই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথম ধাপে কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমে তাদের জন্য আসন বরাদ্দের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রথম ধাপে মনোনয়ন পেল প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। এর বিপরীতে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে মনোনয়ন পায়নি।

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেছে।

আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময়

ভর্তি কার্যক্রমের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। আবেদন করার শেষ সময় ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা। একজন শিক্ষার্থীকে আবেদনের সময় সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওইদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও যারা প্রথম ধাপে কোনো কলেজে মনোনয়ন পায়নি, তাদের এখন পরবর্তী ধাপের ভর্তি কার্যক্রমের দিকে নজর রাখতে হবে। শূন্য আসন এবং নতুন পছন্দক্রমের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তাদের কলেজে ভর্তির সুযোগ তৈরি হবে।

Advertisements