১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিক্ষা

এইচএসসি উত্তরপত্রে ফোন নম্বর দেখে শিক্ষার্থীকে ডাকেন শিক্ষক, টাকার বিনিময়ে নম্বর বাড়ানোর অভিযোগ

WhatsApp Image 2026-09-17 at 2.48.43 PM

রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পরীক্ষক হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলী। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহীর পুঠিয়ার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে নিজের মোবাইল নম্বর লিখে রাখে। খাতা মূল্যায়নের সময় নম্বরটি দেখতে পান পরীক্ষক সেকেন্দার আলী। পরে গত ১৪ আগস্ট সকালে তিনি মেহেদীকে ফোন করে বাসায় যেতে বলেন।

মেহেদীর দাবি, পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে সে জানতে পারে তার খাতায় ২৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে। পরে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়া হয়। যেসব উত্তর ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধন এবং ফাঁকা জায়গায় উত্তর লেখার পর তার নম্বর ৫০-এর বেশি হওয়ার কথা জানান পরীক্ষার্থী।

মেহেদী আরও জানায়, ওই দিন সে রুহুল আমিন, ইমন আলী, সৌরভ, সোহাগ ও সামিসহ কয়েকজনের সঙ্গে বিনোদপুর বাজারে যায়। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে পরীক্ষক সেখানে আসেন। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একটি বাড়িতে। সেখানে মেহেদীর খাতা পাওয়া গেলেও অন্যদের খাতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তার।

পরীক্ষার্থীর সঙ্গে পরীক্ষকের কথোপকথনের একটি রেকর্ডেও টাকা নিয়ে তাকে বাসায় আসতে বলা এবং বিষয়টি অভিভাবকদের না জানাতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কথোপকথনে আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে নিয়ে আসার কথা বলা হয়।

মেহেদীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে ওই পরীক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির পরিচয়ও পাওয়া যায়। মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এটি আগে সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে নিবন্ধিত ছিল। পরে কয়েক হাত বদল হয়ে বর্তমানে রফিকুল ইসলাম সেন্টুর মালিকানায় রয়েছে। সেন্টু অভিযুক্ত প্রভাষকের আত্মীয় বলে জানা গেছে।

Advertisements

তবে ফোনকলের রেকর্ড ও ছবি দেখানো হলেও পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে উত্তরপত্রে লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেকেন্দার আলী।

হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল বলেন, সেকেন্দার আলী দীর্ঘদিন ধরে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছেন। তবে এমন ঘটনার বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানতেন না। শিক্ষা বোর্ড থেকে কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মেহেদীর সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড শুনে অভিযুক্ত শিক্ষক সেকেন্দার আলীর পরিচয়ও নিশ্চিত করেন অধ্যক্ষ।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। এমন কোনো অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি।

Advertisements