১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিক্ষা

নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পশ্চিম চরকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অনিশ্চয়তায় ১০৫ শিশুর পড়াশোনা

a330d7a79863d1d34df6417ca4e3e82a-6aa7a75bf3ef5

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ১৮৩ নম্বর পশ্চিম চরকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যালয় ভবন থেকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ ফুট দূরে এসে ঠেকেছে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে চরকাজল বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় আহম্মেদ আবু জাফরের দান করা ৪০ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। নদীভাঙনে প্রথম দান করা জমি বিলীন হয়ে গেলে তিনি আবারও জমি দান করেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে দুই শিফটে প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণিতে ১০৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনে পশ্চিম চরকাজল মৌজা পুরোপুরি এবং বড় চরকাজল মৌজার একাংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে একটি মাদ্রাসা, চারটি মসজিদ ও একটি কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ভবনসহ শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে।

বিদ্যালয়সংলগ্ন বেড়িবাঁধটিও ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ একর চাষযোগ্য জমি প্লাবিত হতে পারে। নিজেদের উদ্যোগে গাছ দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা। তবে এখনো সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহিরুল ইসলাম বলেন, ভাঙনস্থল বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট দূরে। বেড়িবাঁধের ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। এটি ভেঙে গেলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ চাষযোগ্য জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিভাবকেরা বলছেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেলে এলাকার শতাধিক শিশুর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। দূরের বিদ্যালয়ে সন্তানদের পড়ানোর সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম বলেন, আগে নদী বিদ্যালয় থেকে অনেক দূরে ছিল। কিন্তু ভাঙনের কারণে দিন দিন নদী কাছে চলে এসেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান জানান, নদীভাঙন রোধে ব্লক স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জিওব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গেও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisements