১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

ভিসা বাতিলে আমিরাতে অনিশ্চয়তায় ৪৮০০ বাংলাদেশি

image-82736-1785303487

এক মুহূর্তে বদলে গেছে বহু প্রবাসীর ভবিষ্যতের হিসাব। কেউ ছুটিতে এসে আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না, কেউ আবার ব্যবসা ও পরিবারের চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনায় তৈরি হয়েছে এমনই অনিশ্চয়তা।

প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। আমিরাতের পক্ষ থেকে বিষয়টি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানানো হয়েছে। তবে কেন এতসংখ্যক বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নুরুল হক নুর বলেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ভিসা বাতিলের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হঠাৎ ভিসা বাতিলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীরা। অনেকের কাছে ই-মেইল বা মোবাইল ফোনে বার্তা এসেছে, আবার কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে পৌঁছেছে ভিসা বাতিলের তথ্য। ফলে দেশে এসে আর কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না অনেকে।

ভুক্তভোগীদের একজনের ভাষ্য, আমিরাতে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের অভিযোগ নেই। সেখানে রয়েছে ব্যবসা ও পরিবার। তারপরও আকস্মিকভাবে ভিসা বাতিল হওয়ায় তিনি এখন দেশে আটকে পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা, আয় এবং দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা জীবন—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারেও। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী আমিরাতে কাজ করছেন। ফলে কয়েক হাজার মানুষের ভিসা বাতিলের ঘটনা প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে হলে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ নেই, তাদের ভিসা বাতিলের কারণ স্পষ্ট করা এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ জরুরি।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, এ ঘটনার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবও থাকতে পারে। তার পরামর্শ, আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগকেও কাজে লাগানো উচিত।

এদিকে যেসব বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সমস্যাটির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।

হাজার হাজার প্রবাসীর কাছে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—হঠাৎ বাতিল হওয়া ভিসা কি আবার ফিরবে? সেই উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে তাদের কর্মজীবন, ব্যবসা, পরিবার এবং দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনের ভবিষ্যৎ।

Advertisements