এবার অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে এআই গান নিষিদ্ধ

গান তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন বিতর্ক বাড়ছে, তখন এবার কঠোর অবস্থান নিল অস্ট্রেলিয়া। দেশটির অফিসিয়াল মিউজিক চার্টে সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি গান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গানকে চার্টে জায়গা করে নিতে হলে সেটিতে উল্লেখযোগ্য মানবিক সৃজনশীলতার উপস্থিতি থাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এরিয়া) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য সংগীতের ক্ষেত্রে মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতা ও শিল্পীসত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া।
এমন সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। দেশটির ডিজে জশ ফাওয়াজের তৈরি একটি গান নিয়ে সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। পপ তারকা ম্যাডোনার জনপ্রিয় গান ‘লাইক আ প্রেয়ার’-এর এআই সংস্করণ তৈরি করেছিলেন তিনি। গানটি দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেয়ে এরিয়ার ড্যান্স চার্টের শীর্ষে উঠে আসে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মিউজিক চার্টেও দ্বিতীয় অবস্থান দখল করে।
শুধু চার্টে সাফল্য নয়, গানটি রেডিওতেও ব্যাপক প্রচার পায়। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে গানটির শ্রোতা ছাড়িয়ে যায় ৪ কোটি ৮০ লাখ। কিন্তু এত সাফল্যের পরও গানটি ঘিরে প্রশ্ন ওঠে—এই জনপ্রিয়তার পেছনে আসলে শিল্পীর সৃজনশীলতা কতটা, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা কতটা?
পরবর্তী সময়ে ফাওয়াজ স্বীকার করেন, গানটি তৈরিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং অস্ট্রেলিয়ার সংগীতশিল্পী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিতর্ক তীব্র হয়। এরিয়া এখন বলছে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ সংগীতের বাজারে কেবল কম্পিউটারনির্ভর সৃষ্টিকে মানুষের তৈরি সংগীতের সমতুল্য স্বীকৃতি দিতে তারা আগ্রহী নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংগীত তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বরং সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে এআই ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গানের কথা মানুষের লেখা হতে হবে। প্রধান কণ্ঠশিল্পী এবং মূল বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনেও মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকতে হবে। অন্যদিকে মাস্টারিং, ড্রাম মেশিন কিংবা অটো-টিউনের মতো প্রযুক্তিগত কাজে এআই বা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধা থাকছে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চার্টে গান জমা দেওয়ার সময় শিল্পী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানাতে হবে, গান তৈরির কোন পর্যায়ে এআই ব্যবহার করা হয়েছে। পরে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো গান মূলত এআই দিয়ে তৈরি, তাহলে সেটি চার্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
শুধু তাই নয়, কোনো এআই-নির্ভর গান যদি চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে পুরস্কার বা সম্মাননা পেয়ে থাকে, পরবর্তীতে সেটিও প্রত্যাহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সময়ে সংগীতের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্ককে আরও এক ধাপ সামনে নিয়ে গেল। একদিকে এআই শিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, অন্যদিকে মানুষের সৃষ্টিশীলতার জায়গাটি কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে—সেই প্রশ্নও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।



