১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

মাদকের টাকা জোগাতে কটিয়াদীতে ১০ দিনে ৫ শিশু বিক্রির দাবি

ksrgnj_XIlSOKr

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এসব শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলা বেগম নামের এক নারী ভিক্ষুকের মাধ্যমে এসব শিশু কেনাবেচার ঘটনা ঘটেছে। শিশু বিক্রির ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিক্রি হওয়া এক শিশুর বাবা জাকির মিয়া।

অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য পৃথক সময়ে পাঁচ শিশুকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন ও ফারজানা দম্পতি গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের নবজাতক ছেলে সন্তানকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। সাদ্দাম হোসেন তার দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া দুটি সন্তান ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জাকির হোসেন তার আরেক শিশুকে ৭৭ হাজার টাকা এবং একই এলাকার আসাদ মিয়া তার সন্তানকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

এলাকাবাসী আরও জানান, শিশুদের প্রথমে যাদের কাছে দেওয়া হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে আরও বেশি অর্থের বিনিময়ে অন্য ব্যক্তির কাছে শিশুদের দিয়ে দিয়েছেন। এতে শিশুদের বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Advertisements

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকাসক্ত কিছু মা-বাবা নিজেদের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

চরপুক্ষিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়া, বকুল মিয়া, বাবুল মিয়া, জামাল মিয়া, কালাচাঁন, সখিনা, কালু মিয়া, নুরুন্নাহার ও গ্রাম পুলিশ দুলাল মিয়াসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাদের দাবি, মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে সন্তান বিক্রির মতো ঘটনাও ঘটছে।

এ বিষয়ে কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গ্রামের পরিচয় দিতে এখন তার অস্বস্তি হয়। তার ভাষ্য, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের নাম শুনলেই অনেকে পুরো গ্রামের মানুষকে মাদকাসক্ত বলে মন্তব্য করেন।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের প্রভাব গুরুতর আকার ধারণ করেছে। মাদক সেবনের অর্থ জোগাড় করতে পাঁচটি শিশু বিক্রি করে দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিষদের সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করার কথাও জানান তিনি।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারগুলোর কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। সন্তান বিক্রির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তারা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া একটি দরিদ্র এলাকা এবং সেখানে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা বেশি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ থানায় এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Advertisements