১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বিনোদন

বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানালেন ওমর সানী

omar-sunny-20220326165829_20241015_132503267

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর দাম্পত্য জীবনের বয়স তিন দশকেরও বেশি। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ গোপনে বিয়ে করেছিলেন তারা। দীর্ঘ এই সময়ে সংসার, সন্তান, ভালোবাসা ও অভিমানের পাশাপাশি তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা আলোচনা ও বিচ্ছেদের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। তবে এসব আলোচনা পেছনে ফেলে এখনো একসঙ্গেই আছেন এই তারকা দম্পতি।

সম্প্রতি নিজেদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ওমর সানী। এ সময় তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়েও কথা বলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সানী জানান, মানুষ হিসেবে তার যেমন ভুল হতে পারে, মৌসুমীরও ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত লেখালেখি ও আলোচনা হলেই সমস্যা তৈরি হয়। যারা এ ধরনের খবর প্রকাশ করেন, তাদেরও হয়তো সেটিই জীবিকার একটি মাধ্যম—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়ার কথাও জানান সানী। তবে এসব আলোচনা-সমালোচনার বাইরে স্ত্রীকে নিয়ে নিজের ভালোবাসার কথা স্পষ্ট করতেই দেখা যায় তাকে। মৌসুমীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’

ওমর সানীর মতে, একটি দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পারস্পরিক বিশ্বাস ও ত্যাগের মানসিকতা। একে অন্যকে বিশ্বাস করা এবং প্রয়োজনে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি তাদের সম্পর্কেও রয়েছে বলে জানান তিনি।

মৌসুমীর কোন বিষয়গুলো এখনো তাকে আকর্ষণ করে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সানী বলেন, স্ত্রীর কেয়ারিং স্বভাব ও জেদ তাকে এখনো টানে। তার ভাষায়, মৌসুমী অনেক কথা মনে জমিয়ে রাখতে পারেন এবং তার ধৈর্যও তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে নিজের ধৈর্য কিছুটা কম বলেই মনে করেন তিনি।

Advertisements

স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয়ের কথা বলতে গিয়ে সন্তানদের প্রসঙ্গও সামনে আনেন সানী। ছেলে ফারদীন ও মেয়ে ফাইজাকে নিয়ে মৌসুমীর যত্ন ও চিন্তার কথাই আগে উল্লেখ করেন তিনি।

দীর্ঘ সংসার জীবনের ছোটখাটো মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন এই অভিনেতা। খাবার টেবিলের একটি ঘটনা বলতে গিয়ে জানান, অনেক সময় খাবারের কোন অংশ ফারদীন বা ফাইজা খাবে, সেটিও মৌসুমী আলাদা করে ভাবেন। নিজের খাবারের অভ্যাসের কথাও মজা করে বলেন সানী—মাংসের হাড় চিবিয়ে খেতে তার ভালো লাগে।

মৌসুমী মাঝেমধ্যে তার কিছু কাজ বা সিদ্ধান্ত নিয়ে বকাঝকা করেন বলেও জানান সানী। তবে একই সঙ্গে তার কী প্রয়োজন, কী করতে চান বা কোন বিষয়টি তার ভালো লাগবে—এসব নিয়েও মৌসুমী যথেষ্ট যত্নশীল। সবকিছু মিলিয়ে স্ত্রীকে নিজের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক একজন মানুষ হিসেবেই দেখেন তিনি।

মৌসুমী ও ওমর সানীর সম্পর্কের শুরুটাও ছিল চলচ্চিত্রকে ঘিরে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে প্রথমবার তাদের দেখা হয়। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথম তাদের কথা হয়।

অন্য সিনেমার ব্যস্ততার কারণে সেই সময় প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারেননি মৌসুমী। এরপর ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে সিনেমাটির শুটিংয়ের সময় তাদের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই দূরত্বই বদলে যায় ভালো লাগায়।

মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ ধীরে ধীরে মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীর উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

এরপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা তৈরি হলেও সেসবের কোনো কিছুই তাদের একসঙ্গে পথচলাকে থামাতে পারেনি। ভালোবাসা, বিশ্বাস, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একে অন্যের জন্য ত্যাগের মানসিকতা নিয়েই এখনো সংসার করে যাচ্ছেন মৌসুমী ও ওমর সানী।

Advertisements