‘অ্যাডামস ল’: ক্যালিফোর্নিয়া ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিধিনিষেধ

শিশু-কিশোরদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। ১৬ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে আসক্তি তৈরি করতে পারে—এমন কিছু ফিচার এখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম মোট ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু ফিচার থেকে দূরে রাখতে হবে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা বা অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এর আওতায় রয়েছে অনন্ত স্ক্রলিংয়ের মতো ফিড এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে আরও কিছু ফিচারকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে।
শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও নতুন বিধান করা হয়েছে। এর মধ্যে এআই-চ্যাটবটযুক্ত ‘কম্প্যানিয়ন’ খেলনা তৈরি ও বিক্রির ওপর আগামী চার বছরের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একই সঙ্গে চ্যাটবটভিত্তিক প্রোগ্রামগুলোতে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সি কাউকে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত দেখানো এআই-নির্মিত কনটেন্টও আইনের আওতায় পড়বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাডামস ল’। ১৬ বছর বয়সি অ্যাডাম রেইনের স্মরণে আইনটির এমন নামকরণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন অ্যাডাম। তার বাবা-মায়ের অভিযোগ, আত্মহত্যার বিষয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথোপকথনের পরই তার সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত রূপ নেয়।
এ ঘটনায় ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও স্বীকার করেছে, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন চললে কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম কার্যকর হয়ে যেতে পারে।
গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুরা এমন পরিবেশে বেড়ে উঠুক, যেখানে প্রযুক্তি তাদের উন্নতি ও কল্যাণে ভূমিকা রাখবে; তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া অবশ্য একা নয়। এর আগে ইউটাহ, আরকানসাস, লুইজিয়ানা, ওহাইও, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (EFF) মনে করছে, তরুণদের ইন্টারনেট ব্যবহারে এ ধরনের বিধিনিষেধ অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ অনলাইন গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা যায়—ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনকে ঘিরে সেই বিতর্কই এখন আরও জোরালো হচ্ছে।



