চল্লিশের পরও জীবন হোক সুন্দর, সুখী থাকার চার মন্ত্র জানালেন কুসুম

চল্লিশ পেরোনো মানেই জীবনের আনন্দ ফুরিয়ে যাওয়া নয়। বরং জীবনের এই পর্যায় হতে পারে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার, মানসিক প্রশান্তি খোঁজা এবং নিজের মতো করে ভালো থাকার সময়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়ে, তেমনি বদলে যায় সুখের সংজ্ঞাও। আর এই বয়সে কীভাবে নিজেকে সুখী ও সুন্দর রাখা যায়, সেই ভাবনাই ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী কুসুম শিকদার।
জীবনের চল্লিশ বসন্ত পেরিয়ে কুসুম মনে করেন, ভালো থাকার জন্য খুব জটিল কোনো সূত্রের প্রয়োজন নেই। বরং কিছু ইতিবাচক অভ্যাস ও মানসিকতার চর্চাই জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তুলে ধরেছেন চল্লিশোর্ধ্ব জীবনে সুখী ও সুন্দর থাকার চারটি মন্ত্র।

ঘৃণা নয়, ভালোবাসার চর্চা
কুসুমের মতে, জীবনে ভালো থাকার প্রথম শর্তই হলো ঘৃণা থেকে নিজেকে দূরে রাখা। তবে তার মানে এই নয় যে, নেতিবাচক মানুষ বা পরিবেশকে সবসময় সহ্য করে যেতে হবে। বরং নিজের মানসিক শান্তির কথা ভেবে নেতিবাচকতার সঙ্গ এড়িয়ে চলাও জরুরি। তিনি লিখেছেন, ‘ঘৃণা করা যাবে না, শুধুই ভালোবাসতে হবে। তবে নেগেটিভ অ্যানার্জির সঙ্গ পরিত্যাগ করতে হবে, নাহয় মন কলুষিত হবে।’ অর্থাৎ অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পুষে না রেখে নিজের মনকে ইতিবাচক রাখার পাশাপাশি যেসব সম্পর্ক বা পরিবেশ মানসিকভাবে বিষিয়ে তোলে, সেখান থেকেও প্রয়োজনমতো দূরত্ব তৈরি করতে হবে।
আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস নয়
জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ বুঝতে শেখে, সব জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়া জরুরি নয়। কোথাও যদি নিয়মিত অবমূল্যায়ন কিংবা অসম্মানের আশঙ্কা থাকে, সেখানে নিজেকে আটকে রাখারও প্রয়োজন নেই—এমনটাই মনে করেন কুসুম।
তার দ্বিতীয় মন্ত্র তাই আত্মসম্মানকে ঘিরে। তিনি লিখেছেন, ‘অবমূল্যায়ন বা অসম্মানের সম্ভাবনা যেখানে, না যাওয়াই ভালো সেখানে।’ এই কথার মধ্য দিয়ে নিজের মর্যাদা ও মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই দিয়েছেন অভিনেত্রী। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনে কোন সম্পর্ক, কোন পরিবেশ কিংবা কোন জায়গা নিজের জন্য স্বাস্থ্যকর—সেটি বুঝে নেওয়াও এক ধরনের প্রজ্ঞা।
শেখার আগ্রহ যেন কখনো না ফুরায়
চল্লিশ পেরিয়ে নতুন কিছু শেখার কী আছে—এমন ভাবনা একেবারেই পছন্দ নয় কুসুমের। বরং জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই শেখার আগ্রহ ধরে রাখাকে তিনি ভালো থাকার অন্যতম চাবিকাঠি মনে করেন। তার ভাষায়, ‘মুগ্ধ হওয়ার ক্ষমতা এবং রোজ নতুন কিছু শেখার আগ্রহ রাখতে হবে।’ নতুন কোনো বিষয় শেখা, নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহণ কিংবা চারপাশের ছোট ছোট সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে পারা—এসবই জীবনকে প্রাণবন্ত রাখে। বয়স এখানে কোনো বাধা নয়; বরং কৌতূহলী মনই মানুষকে ভেতর থেকে তরুণ রাখে।

প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া
কুসুমের সুখী থাকার চতুর্থ মন্ত্রটি বেশ সহজ—প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও নানা দায়িত্বের মধ্যে মানুষ অনেক সময় প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যায়। অথচ মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শ, ‘প্রায়ই প্রকৃতির কাছে যেতে হবে।’
সব মিলিয়ে কুসুম শিকদারের চারটি মন্ত্র আসলে বয়সকে নয়, জীবনকে উদযাপন করার কথাই বলে। ঘৃণার বদলে ভালোবাসা, অসম্মানের জায়গা থেকে সরে আসা, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো—এই ছোট ছোট অভ্যাসই হয়তো চল্লিশের পরের জীবনকে আরও শান্ত, সুন্দর ও অর্থবহ করে তুলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুসুমের এই ভাবনা ইতোমধ্যেই অনুসারীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে আত্মসম্মান, মানসিক প্রশান্তি এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করার বার্তাগুলো নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এই চার পরামর্শ তাই শুধু চল্লিশোর্ধ্বদের জন্য নয়, যেকোনো বয়সের মানুষের জন্যই হয়ে উঠতে পারে ভালো থাকার সহজ কিছু সূত্র।


