৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

গরমে এসি কত ডিগ্রিতে রাখবেন? ভুল তাপমাত্রায় হতে পারে উল্টো বিপদ

AC-rules-in-summer-1-768×402

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে এসির ঠান্ডা বাতাসের বিকল্প যেন নেই। বাইরে যখন অসহনীয় তাপ, তখন ঘরের ভেতর কয়েক ডিগ্রি কম তাপমাত্রাই এনে দেয় প্রশান্তি। কিন্তু আরাম পেতে গিয়ে এসির তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে ফেললে কি শরীরের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন ঝুঁকি? উত্তর হলো- হ্যাঁ, পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি স্বাস্থ্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু তাপমাত্রা নয়, কতক্ষণ এসি চলছে, ঘরের আর্দ্রতা কেমন এবং এসির পরিচ্ছন্নতা ঠিক আছে কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

কত ডিগ্রিতে রাখবেন এসি?

বাইরের তাপমাত্রার তুলনায় ঘরের তাপমাত্রার খুব বেশি পার্থক্য তৈরি করা ঠিক নয়। ‘ডেল্টা-টি’ বিবেচনায় সাধারণত বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম তাপমাত্রায় এসি রাখাকে আরামদায়ক বলে ধরা হয়।
তবে ঘরের জন্য ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস একটি আরামদায়ক পরিসর হতে পারে। বাইরে প্রচণ্ড গরম থাকলেও এসি ১৮–২০ ডিগ্রিতে নামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। এতে শরীরকে হঠাৎ করে খুব গরম পরিবেশ থেকে অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে যেতে হয়, যা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

এসির ঠান্ডা বাতাসে কেন ত্বক শুকিয়ে যায়?

এসি শুধু ঘরের তাপমাত্রা কমায় না, বাতাসের আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশের মতো আর্দ্র আবহাওয়ায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় এসি রুমে থাকলে ত্বক ও চোখ শুষ্ক লাগতে পারে, কারও কারও গলা শুকিয়ে যাওয়া, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। তাই এসির তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে না রেখে আরামদায়ক মাত্রায় রাখা এবং দীর্ঘ সময় একটানা ঠান্ডা ঘরে না থাকাই ভালো।

Advertisements

শুধু তাপমাত্রা ঠিক রাখলেই হবে না

একটি ঘরে পরিবারের শিশু, তরুণ ও বয়স্ক—সব বয়সী মানুষ থাকতে পারেন। সবার জন্য আলাদা এসি রাখা সম্ভবও নয়। ফলে একই ঘরে সবাইকে স্বস্তি দিতে হলে এসি কেনার সময় থেকেই কিছু বিষয় গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ভালো মানের এয়ার ফিল্টার, ইউভি প্রযুক্তি এবং PM2.5 ফিল্টারিং সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ধুলাবালিতে অস্বস্তি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এসি ও ভালো ফিল্টার গুরুত্বপূর্ণ।

এসির ফিল্টারে জমে থাকা ময়লা কতটা বিপজ্জনক?

এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধুলাবালি জমে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। ফলে এসির কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগে। এর পাশাপাশি আর্দ্রতা ও ময়লা জমে থাকলে এসির ভেতরে জীবাণু ও ছত্রাকের বৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের কাশি, ড্রাই কফ, শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার উপসর্গ বাড়তে পারে।

তাই নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। সম্ভব হলে সপ্তাহে একবার ফিল্টার পরিষ্কার করা ভালো। তা সম্ভব না হলে অন্তত ১৫ দিন পরপর সাবান-পানি বা উপযুক্ত পরিষ্কারক দিয়ে ফিল্টার ধুয়ে নিতে পারেন। অবশ্য পরিষ্কারের আগে এসির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

এসির ভেতরটাও কি পরিষ্কার করতে হয়?

শুধু ফিল্টার পরিষ্কার করলেই সবসময় যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর এসির ইনডোর ইউনিটের ভেতরেও ধুলা ও ময়লা জমতে পারে। ফলে বাতাসের প্রবাহ কমে যেতে পারে, অতিরিক্ত শব্দ বা দুর্গন্ধও হতে পারে।

এ কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার সার্ভিসিং বা ডিপ ক্লিনিং করানো ভালো। যেসব আধুনিক এসিতে সেলফ-ক্লিনিং ফিচার রয়েছে, সেগুলো ভেতরের আর্দ্রতা ও ময়লা নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে সেলফ-ক্লিনিং থাকলেও প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

২৪ ঘণ্টা এসি চালানো কি ক্ষতিকর?

তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় এসি চালানো নিজেই যে সবসময় ক্ষতিকর—এমন নয়। আসল বিষয় হলো কীভাবে এসি ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা এড়িয়ে চলা, ঘরের বাতাসের আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত এসি ও ফিল্টার পরিষ্কার রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা ঘরে থাকার পর হঠাৎ প্রচণ্ড গরমে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও এড়িয়ে চলা ভালো।

অর্থাৎ, এসির তাপমাত্রা যত কম, আরাম তত বেশি—এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়। বরং ২৫–২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো আরামদায়ক তাপমাত্রা, পরিষ্কার ফিল্টার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ—এই তিনটির সমন্বয়েই গরমে এসি হতে পারে স্বস্তির, স্বাস্থ্যকর ও কার্যকর সঙ্গী।

Advertisements