৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

শিশুরও হতে পারে গ্লুকোমা, অবহেলায় হারাতে পারে দৃষ্টিশক্তি

smiling-baby-wrapped-in-soft-white-blanket-looking-at-the-camera-photo

গ্লুকোমা শুধু বড়দের রোগ—এমন ধারণা ঠিক নয়। জন্মের সময় থেকেই কোনো কোনো শিশুর গ্লুকোমা থাকতে পারে। আবার জন্মের পরও বিভিন্ন কারণে শিশুদের এ রোগ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা থাকে।

গ্লুকোমায় সাধারণত চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাপের কারণে মস্তিষ্কের সঙ্গে চোখের সংযোগকারী অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ক্ষতি একবার হলে তা অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী হয়ে যায়।

শিশুর গ্লুকোমার লক্ষণ

জন্মগত গ্লুকোমার ক্ষেত্রে জন্মের পর শিশুর চোখ অন্য শিশুদের তুলনায় বড় দেখাতে পারে। চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া, আলো সহ্য করতে না পারা এবং চোখের মণি ঘোলা হয়ে যাওয়াও এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। সমস্যা বাড়তে থাকলে চোখের মণি অস্বাভাবিক বড় দেখাতে পারে।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ চোখের চাপ দীর্ঘদিন বেড়ে থাকলে অপটিক নার্ভের ক্ষতি হয়ে শিশুর দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে।

স্টেরয়েড ব্যবহারে সতর্কতা

জন্মের পরও শিশুদের গ্লুকোমা হতে পারে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে স্টেরয়েডজাতীয় চোখের ওষুধের ব্যবহার। অ্যালার্জি বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে শিশুদের চোখে অনেক সময় স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করলে চোখের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শিশুর চোখ পরীক্ষা করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। চোখের প্রেশার মাপাও অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাজার থেকে ওষুধ কিনে নিজেরাই ব্যবহার করেন। এতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দেরি হওয়ার পাশাপাশি সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।

চিকিৎসা আছে, তবে দেরি নয়

শিশুদের গ্লুকোমার চিকিৎসায় রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। চোখের ড্রপের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে লেজার থেরাপি, ফিল্টারিং সার্জারি, ড্রেনেজ টিউব কিংবা মিনিমালি ইনভেসিভ গ্লুকোমা সার্জারি করা হতে পারে।

তবে কোন রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা কার্যকর হবে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসায় অহেতুক দেরি করলে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করেও ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

তাই শিশুর চোখ দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে পানি পড়া, আলো সহ্য করতে না পারা বা চোখের মণি ঘোলা কিংবা বড় দেখালে নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements